দুর্নীতি মামলায় আত্মসমর্পণের পর বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান ও পৌরসভার সাবেক সচিব মোহম্মদ রেজাউল করিমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা ও দায়রা জজ মো. রবিউল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বাগেরহাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট মিলন ব্যনার্জী জানান, সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলায় পৌর মেয়র হাবিবুর রহমানকে তিন সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। গত ৩১ জানুয়ারি মেয়রের আগাম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছিলেন। সেই আদেশের কারণে তিনি বাগেরহাট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন আবেদন করেন। সিনিয়র জেলা জজ রবিউল ইসলাম শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করেন। সেই সঙ্গে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে মেয়রের জামিন নামঞ্জুরের প্রতিবাদে দুপুরে বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে ও রাস্তায় বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধে হয়ে যায়। পরে পুলিশ মহাসড়কের ব্যারিকেড অপসারণ করে। এ ঘটনার পর দুপুর আড়াইটার দিকে বিশেষ পুলিশি প্রহরায় মেয়রকে কারাগারে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, অবৈধ নিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদক মামলা করে। এর আগে ২০২০ সালের ৭ অক্টোবর খান হাবিবুর রহমানের দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করে দুদকের খুলনা কার্যালয়।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, বাগেরহাট পৌরসভায় নিয়মবহির্ভূতভাবে ১৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে সরকারি কোষাগার থেকে এক কোটি ২৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা আত্মসাতের অপরাধে মেয়রসহ ১৮ জনকে আসামি করে একটি মামলা করে দুদক। অন্যদিকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ বাগেরহাটে আবাহনী ক্লাবের কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ ও বাগেরহাট ডায়াবেটিক হাসপাতাল কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ না করে এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হাবিবুর রহমান ও বাগেরহাট পৌরসভার সাবেক সচিব মোহাম্মদ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করে দুদক।









