সড়কে রাখা বালু স্থানান্তরের পাইপের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় পড়ে আহত প্রধান শিক্ষক কাঞ্চন পাল (৫৫) অবশেষে মারা গেছেন। সোমবার সকালে খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ওই সড়কে এর আগেও কয়েকটি দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
কাঞ্চন পাল যশোরের অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী গ্রামের নেপালচন্দ্র পালের মেয়ে। তিনি ধোপাদী মডেল এডাস স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
গত ২৩ মার্চ রাতে অসুস্থ ভাইয়ের ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন কাঞ্চন পাল। পথে বালু নেওয়ার জন্য সড়কের ওপর রাখা প্লাস্টিকের পাইপের উঁচু অংশ পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের পেছন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।
নিহতের ছোটভাই সমর পাল জানান, ২৩ মার্চ দিবাগত রাত ২টার দিকে তার ছেলে প্রান্ত পাল অসুস্থ হয়ে পড়ে। বোন কাঞ্চন পাল মোটরসাইকেলে করে তাকে নিয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছিলেন। দুটি মোটরসাইকেলের একটিতে ছিল তার ছেলে। অপর মোটরসাইকেলের পেছনে বসেছিলেন বোন কাঞ্চন পাল। রাত পৌনে ৩টার দিকে দুটি মোটরসাইকেল হাসপাতাল থেকে মাত্র ৪০০ গজ দূরে পৌঁছায়। হাসপাতাল সড়কের ওই অংশের ওপর দিয়ে এক বালু ব্যবসায়ী ছয় মাস ধরে ভৈরব নদের ট্রলার থেকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে বালু নিয়ে পাশের পুকুর ভরাট করছেন। সড়কের ওপর পাইপের দুই পাশে ইটের সুড়কি দিয়ে খনিকটা উঁচু করা রয়েছে। সড়কের ওই উঁচু অংশ পার হতে গিয়ে মোটরসাইকেল থেকে সড়কের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হন কাঞ্চন। এরপর থেকে তার আর জ্ঞান ফেরেনি। তাকে প্রথমে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে খুলনার বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত শনিবার রাতে তাকে খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তিনি মারা যান।
বিকালে অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
স্থানীয়রা জানান, গত ছয় মাসে হাসপাতাল সড়কের পাইপ দেওয়া ওই অংশে সাত-আটটি ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই জন নিহত এবং অন্তত আট জন আহত হয়েছেন। গত ২১ ডিসেম্বর রাতে সড়কের ওই উঁচু অংশ পার হওয়ার সময় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পাশের ওপর পড়ে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার পোড়াডাঙ্গা গ্রামের কলেজছাত্র নিউটন মল্লিক (২৫) মারা যান।
অভয়নগর থানার ওসি এ কে এম শামীম হাসান বলেন, ‘এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেননি। বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।’
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, হাসপাতাল সড়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সড়কের বালু পরিবহনের পাইপ রাখা যাবে না। বিষয়টি খোঁজ দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।








