১৩ ফেব্রুয়ারি শনিবার পয়লা ফাল্গুন আর এর পরদিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ দুটি দিনে প্রিয়জনের মন রাঙাতে এবং ভালোবাসা প্রকাশে ফুলই যেন শ্রেষ্ঠ। এসব মানুষের মনের খোরাক মেটাতে যশোরের গদখালীতে উৎপাদিত ফুল ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীসহ সারাদেশে। আর এ দুটি দিবসকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ কোটি টাকার ফুল বিক্রি করেছেন এখানকার চাষিরা।
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ও পানিসারা ইউনিয়নের বহু চাষি তাদের জমিতে ধান, পাটের চাষ চুকিয়ে সারাবছরই ফুল চাষ করেন। তাদের উৎপাদিত রজনীগন্ধা, গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জিপসি, রডস্টিক, কেলেনডোলা, চন্দ্র মল্লিকাসহ ১১ ধরনের ফুল সারাদেশের মানুষের মন রাঙাচ্ছে। বিশেষ করে পয়লা ফাল্গুন, ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনের মন রাঙাতে এ ফুলের বিকল্প নেই। এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেও রয়েছে এ ফুলের চাহিদা। তাই বছরের এ তিনটি দিনকে ঘিরেই হয় মূল বেচাকেনা। ব্যাপক চাহিদা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় ভালো দাম পেয়ে খুশি এ অঞ্চলের ফুলচাষিরা।
গদখালির বাজারে একশ’ গোলাপ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, রজনীগন্ধা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, গ্লাডিওলাস ৮০০ থেকে ১২শ’ টাকা, জারবেরা ৮০০ থেকে ১২শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ফুলচাষি আমিনুল ইসলাম জানান, তার ১৪ বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা, গোলাপ, জারবেরা, গাঁদা গ্লাডিওলাস চাষ করেছেন। এসএসসি পরীক্ষার কারণে মাঝে ফুলের দাম কিছুটা কমে গিয়েছিল। কিন্তু বসন্ত উৎসব আর ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ফের ফুলের দাম ভালো পেয়েছেন। গত পাঁচদিনে তিনি প্রায় ৮০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করেছেন।
গতবছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে লোকসান হলেও এবার ভালো দাম পাওয়ায় সে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পেরেছেন চাষিরা।
তার মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে এ অঞ্চলের চাষিরা আরও লাভবান হতো।
অপর ফুলচাষি মুকতার আলী বলেন, গত বছর হরতাল-অবরোধের কারণে বেচাবিক্রি কম ছিল। এবার উৎপাদন বেশি, বিক্রিও বেশি। সে কারণে চাষিরা লাভবানও হচ্ছেন।’
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার্স সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রায় ১২ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে। আর বেচাকেনায় সন্তুষ্ট এ অঞ্চলের চাষিরা।
তিনি আরও বলেন, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসকে সামনে রেখে প্রস্তুত রয়েছেন গদখালীর ফুলচাষিরা। এ দিবসকে ঘিরে আরও ৭ কোটি টাকার ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হচ্ছে। আর যশোরে এই ফুলকে কেন্দ্র করে সারাদেশের প্রায় ১০ লাখ লোক ফুল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
১৯৮৩ সালে গদখালিতে মাত্র ৩০ শতক জমিতে ফুল চাষ শুরু হয়। এখন চাষ হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে। দেশে ফুলের মোট চাহিদার ৭০ ভাগই যশোরের গদখালি থেকে সরবরাহ করা হয়। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এই ফুল এখন যাচ্ছে দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়াতেও।
/এআর / এএইচ /







