আশ্রয় দেওয়ার নাম করে দশ বছর ধরে এক মামা তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ভাগ্নিকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার সুরশাইল গ্রামে এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটেছে। এই অপকর্মে ওই প্রতিবন্ধী যুবতী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে একাধিকবার তাকে গর্ভপাত করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার রাতে মামার বাড়িতে ওই যুবতীর পুনরায় গর্ভপাত ঘটাতে গেলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। গুরুতর অবস্থায় তাকে চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হলে ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়। উপজেলা মহিলা পরিষদ এ বিষয়ে থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল করিম মঙ্গলবার রাতে জানান,‘ঘটনাটির বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, চিতলমারী উপজেলার সুরশাইল গ্রামের মৃত অমেশ বিশ্বাসের পুত্র গৌরাঙ্গ বিশ্বাস (৪৫) তার আপন বোনের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েকে ১০ বছর ধরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে আসছেন। মেয়েটি একাধিকবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাকে অবৈধভাবে গর্ভপাত করানো হয়। সোমবার মামার বাড়িতে পুনরায় গর্ভপাতের সময় মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
পরে ওই দিন রাতে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। মেয়েটি বর্তমানে হাসপাতালে শয্যাশায়ী।
বিষয়টি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। খবর পেয়ে ভিকটিমকে দেখতে বিভিন্ন ব্যক্তি হাসপাতালে ছুটে গেছেন। তারা ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মামার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ ব্যাপারে প্রতিবেশী শেফালি মণ্ডল জানান, ছোটবেলায় মেয়েটির মা মারা যায়। এরপর তার বাবা নিখোঁজ হয়ে গেলে সে মামার কাছে আশ্রয় নেয়। ওই বাড়িতে অন্য কোনও লোকের বসবাস না থাকায় মেয়েটিকে গত ১০ বছর ধরে ধর্ষণ করে আসছে মামা গৌরাঙ্গ।
চিতলমারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মুকুল চন্দ্র মজুমদার জানান,‘ভিকটিমের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের বাড়িতে গিয়েও তার দেখা পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।
/এনএস/এমএসএম/
আপ: এইচকে








