মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে খুলনার থ্রি ডক্টরস কোচিং সেন্টারের মালিক ডা. ইউনুস খান ওরফে তারিমকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা শুক্রবার (১৮ আগস্ট) সকালে তাকে খুলনা নগরী থেকে আটক করে।
আটক তারিম বিএমএ খুলনার নির্বাহী পরিষদের সদস্য, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) খুলনা জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। তিনি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একজন অফিসার।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন ডা. তারিমের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সিআইডি ঢাকার একটি টিম শুক্রবার সকালে তারিমকে আটক করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ডা. তারিম মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তারিম তার মালিকানাধীন থ্রি ডক্টরস কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির প্রশ্নপত্র ফাঁস করে গত ১৬ বছরে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন।
সূত্র আরও জানায়, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়ে অনুসন্ধান শেষে এক প্রতিবেদনে বলেছে, খুলনার এই কোচিং সেন্টার ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে ‘মেধাহীন’, ‘অযোগ্য’ ছাত্রছাত্রীদের মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ করে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে জনপ্রতি ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা করে নিচ্ছে। এই ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে বছরে শত কোটি টাকার বেশি অবৈধ লেনদেন হচ্ছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে কিছু শিক্ষার্থীর ফলাফল বিবরণীর বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়, যারা থ্রি ডক্টরসে কোচিং করেছেন। তাতে দেখা যায়, তারা কেউ এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫ পায়নি। তবে ভর্তি পরীক্ষায় ৭৩ করে নম্বর পেয়েছে। একজন ৭৩.২৫ নম্বর পেয়েছে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি সিআইডি প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাত জনই চিকিৎসক। তদন্তের ধারাবাহিকতায় খুলনার থ্রি ডক্টরস কোচিং সেন্টারের মালিক ডা. তারিমকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর খুলনা মহানগরীর বেনুবাবু রোডের জাহান মঞ্জিলে অবস্থিত কোচিং থেকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তারিমকে আটক করা হয়। খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান খান ও মিজানুর রহমান মেডিক্যালে ভর্তির কোচিং সেন্টার থ্রি ডক্টরসে অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করেছিলেন। অভিযানকালে থ্রি ডক্টরস অফিসের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক জব্দ করা হয়। একই সময় একই ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত বিজ্ঞান প্রযুক্তি লাইব্রেরি অফিসেও অভিযান চালানো হয়। এই অফিসটাও থ্রি ডক্টরসের নিয়ন্ত্রণে ডা. রানা পরিচালনা করেন।









