হাসপাতালে ধর্ষণের অভিযোগ, ‘উল্টে গেলো’ থানায় গিয়ে

খুলনা প্রতিনিধি
৩০ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:২৯আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ১১:১৯

খুলনায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ধর্ষণ ও পরে অপহরণের অভিযোগ করা সেই নারীর (২৮) পুলিশের কাছে ভিন্ন কথা বলেছেন বলে দাবি করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি। পুলিশ বলছে, সোনাডাঙ্গা থানায় হাজির হয়ে ওই নারী বলেন, তাকে ধর্ষণ কিংবা অপহরণ করা হয়নি।

এর আগে, শনিবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গাজী এজাজ আহমেদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন তিনি। হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি হয়ে এই নারী অভিযোগ করেন, তিনি ধর্ষণের শিকার। ডুমুরিয়া উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ গত চার-পাঁচ বছর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে আসছিল। সর্বশেষ ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শাহপুর বাজারে ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের নিজস্ব কার্যালয়ে ধর্ষণের শিকার হন। এরপর তিনি বিয়ের জন্য চাপ দেন। এ সময় বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ওই নারী ওসিসিতে এসে অভিযোগ করেন।

সেদিন তিনি দাবি করেছিলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন তার সঙ্গে মেলামেশা করেছেন। বিয়ের জন্য চাপ দিলে ২৭ জানুয়ারি রাতে ফোন করে ডেকে নিয়ে ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আবারও ধর্ষণ করেন।

এরপর অভিযোগ ওঠে, খুমেক হাসপাতালের ওসিসি’র সামনে থেকে রবিবার (২৮ জানুয়ারি) বিকালে অপহরণও করা হয় তাকে। ওই দিন রাত পৌনে ১১টার দিকে তিনি ও তার মা সোনাডাঙ্গা থানায় হাজির হন। এরপর পুলিশে তারা ধর্ষণ ও অপহরণ না হওয়ার কথা বলেন। কোনও অভিযোগ না থাকায় পুলিশ হেফাজতে থাকা ইউপি চেয়ারম্যানকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশকে এই নারী জানান, ছাড়পত্র পেয়ে তিনি মাসহ যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলায় তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান। পুলিশ খবর দিলে রাত সাড়ে ১০টায় সেই মাইক্রোবাসে করে সোনাডাঙ্গা থানায় উপস্থিত হন।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই নারী দাবি করেন, তিনি ধর্ষণের শিকার হননি। তাকে তার ভাই ও আরেক ব্যক্তি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে ভর্তি করেছিলেন। রবিবার বিকালে সেখান থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তিনি গাড়িতে নিজেই রওনা দেন এবং যশোরের কেশবপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান। এরপর পুলিশ খবর দেওয়ায় তারা থানায় এসেছেন।

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী জানিয়েছেন, ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ তাকে ধর্ষণ করেননি। এ ছাড়া খুমেক হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে কেউ অপহরণও করেনি। নিজেই এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন।

আমিরুল ইসলাম আরও জানান, অপহরণের অভিযোগে আটক করা এজাজের চাচাতো ভাই গাজী তৌহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধেও কোনও অভিযোগ নেই। সে কারণে তাকেও ছেড়ে দেওয়া হয়।

খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ডা. সুমন রায় জানিয়েছেন, তার পরীক্ষা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদনে জানা যাবে।

/এফআর/
সম্পর্কিত
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বশেষ খবর
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি