পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।
শনিবার (২৫ মে) সকাল থেকে নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে কখনো রোদ আবার কখনো আকাশ মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়া বিরাজ করছে। দুপুরের দিকে কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। প্রকৃতির এমন আচরণে আতঙ্ক বিরাজ করছে উপকূলবাসীর মধ্যে।
এদিকে, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় রিমালের খবরে উপকূলজুড়ে শঙ্কায় রয়েছে বেড়িবাঁধের পাশে আশ্রয় নেওয়া মানুষেরা। তবে জেলা প্রশাসন প্রাথমিকভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মে মাস উপকূলবাসীর কাছে আতঙ্কের মাস। প্রতিবছর এই মাসের শেষে সুন্দরবন উপকূলে আছড়ে পড়ে প্রলয়ংকরী সব ঘূর্ণিঝড়। ৫ বছর আগে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জলোচ্ছ্বাস আইলাও আঘাত হেনেছিল এই মে মাসের ২৫ তারিখ। রবিবার (২৬ মে) আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। এমন বার্তায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন নদীতীরবর্তী মানুষ।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার (২৩ মে) প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে। জেলার ৩৫৯টি আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘রিমাল’ একটি আরবি শব্দ, যার বাংলা অর্থ বালু। নামটি দিয়েছে ওমান।
এদিকে ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, শনিবারের মধ্যে এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড় রিমালে পরিণত হতে পারে। এরপর রবিবার রাতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মাঝখান দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। উপকূলে আঘাত হানার সময় এটির কেন্দ্রের গতিবেগ উঠতে পারে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগের বা সামনের অংশের প্রভাব রবিবার সকাল থেকেই পাওয়া যেতে পারে। শনিবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার থেকে বৃষ্টি আরও বাড়বে। উপকূলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।








