যশোর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনালে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে ২৪জনকে হত্যার অভিযোগে অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
ঘটনার ১৫ দিন পর সোমবার (১৯ আগস্ট) রাতে শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই যশোর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তার চাচাতো ভাই শাহীন চাকলাদার যশোর শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়া এলাকার মৃত মান্নান চাকলাদারের ছেলে। তিনি একজন সাবেক সংসদ সদস্য। যশোর শহরের চিত্রা মোড়ে এম এম আলী রোডে দ্য জাবির যশোরে নামে তার মালিকানাধীন একটি তিন তারকা মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ৫ আগস্ট বিকাল ৩টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গান পাউডার ও পেট্রোল নিয়ে ওই হোটেলের মধ্যে ঢোকে।
এরপর প্রথমে লুটপাট শুরু করে। দুর্বৃত্তরা হোটেলে ক্যাশ ভোল্ট ভেঙে ৯০ লাখ টাকা চুরি করে। এরপর ১০০ ফ্রিজ, ১০০ স্মার্ট টেলিভিশন, সাড়ে ৪০০ কিলোভেল্টের দুটি জেনারেটর, হোটেলে স্টোরে রাখা বিভিন্ন প্রকার মালামাল, আসবাবপত্র, এক হাজার কিলোভোল্টের ট্রান্সফরমারসহ সাবস্টেশন, প্রেশার পাম্প, সাইবার স্টেশন, ফায়ার ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ লুট করে।
এরপর গানপাউার ও পেট্রোল দিয়ে হোটেলে একতলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এতে ওই হোটেলে থাকা একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকসহ ২৪ জন পুড়ে মারা যায়। নিহতদের মধ্যে হোটেল স্টাফ ও বোর্ডার ছিলেন। হোটেলের আলমারিতে রাখা তার ভাইয়ের বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যবান কাগজপত্র, আসবাবপত্র, স্টোরে রাখা বিভিন্ন মালামাল, যাবতীয় ইলেক্ট্রিক সামগ্রী, তিনটি লিফট, জানালার গ্রিল, গ্লাস দরজার যাবতীয় ডেকোরেশন পুড়ে ভস্মীভূত হয়। এ ছাড়া মূল ইমারতের বহু ক্ষতি হয়েছে। যা এই মুহূর্তে নিরূপণ করা সম্ভব না।
বিষয়টি আশেপাশের বহু লোকজন দেখেছে। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় সে সময় অভিযোগ দেওয়া সম্ভব ছিল না বিধায় মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রবিবার রাতে সদ্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু একটি অভিযোগ দিয়েছিলেন। সেটি আজ মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মামলা নম্বর ২২। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









