যশোরে সাইদুল ইসলাম সাঈদ নামে এক যুবককে গুমের অভিযোগে জেলার সাবেক পুলিশ সুপার আনিছুর রহমানসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
রবিবার (০১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম কিবরিয়ার আদালতে মামলাটি করেছেন গুমের শিকার সাঈদের বাবা কাজী তৌহিদুল ইসলাম খোকন। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী আমিনুর রহমান।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- সদর পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন টিএসআই রফিকুল ইসলাম, কোতোয়ালি থানার তৎকালীন এসআই এইচএম শহিদুল ইসলাম, এসআই আমির হোসেন, এএসআই হাসানুর রহমান, এএসআই রাজন গাজী, এএসআই সেলিম মুন্সী, এএসআই বিপ্লব হোসেন, এএসআই সেলিম আহমেদ, কনস্টেবল আরিফুজ্জামান, পুলিশের গাড়িচালক রমজান, স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান, আবু বক্কার, মিজান শেখ, মাহমুদুর রহমান, রাজিবুল ইসলাম, টোকন হোসেন, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা, শহরের নাজিরশংকরপুর এলাকার নুর ইসলাম নুরু, আনিস, শংকরপুর মুরগির ফার্ম এলাকার অভ্র, চাঁচড়া রায়পাড়ার হাসমত, মাসুম ও শংকরপুর এলাকার খালেদুর রহমান চুন্নু।
বাদী মামলায় উল্লেখ করেছেন, ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তার ছেলে সাঈদ বন্ধু শাওনের সঙ্গে যশোর পৌর পার্কে ঘুরতে যায়। দুপুর ১২টার দিকে তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিছুর রহমানের নির্দেশে মামলার অন্যান্য আসামি পৌর পার্ক থেকে সাঈদ এবং শাওনকে আটক করেন। খবর পেয়ে বাদী এবং তার স্ত্রী হীরা খাতুন ইজিবাইকে করে পৌর পার্কে যান। তারা পুলিশ সদস্যদের কাছে সাঈদ ও শাওনকে আটকের কারণ জানতে চান। কিন্তু পুলিশ কিছুই বলেনি। তাৎক্ষণিক বাদী কোতোয়ালি থানায় গেলে ডিউটিরত পুলিশ তাকে ভেতরে ঢুকতে দেননি। তখন এসআই শহিদুল ইসলাম ও আমির হোসেন এসে বাদীর কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। অন্যথায় সাঈদ ও শাওনকে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেন। এ কথা শুনে বাদী বাড়িতে ফিরে যান। দুদিন পর পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারেন, সাঈদ ও শাওন পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে। এরপর সাঈদ ও শাওনকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ সুপার বাদে মামলায় উল্লিখিত ১৬ পুলিশ সদস্যের কাছে কয়েক দফা গেলে তারা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। তখন তার ধারণা হয়, দাবিকৃত দুই লাখ টাকা ঘুষ না দেওয়ায় পুলিশ সাঈদকে হত্যার পর লাশ গুম করেছে।
এরপর পুলিশ সুপার বাদে অপর ১৬ পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন হীরা খাতুন। পরে আসামি গোলাম মোস্তফা, নুর ইসলাম নুরু, আনিস, অভ্র, হাসমত, মাসুম ও খালেদুর রহমান চুন্নু ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তারা বলেন, ১০ লাখ টাকা দিলে সাঈদকে ফিরিয়ে দেবেন। এ অবস্থায় হীরা তাদের ১০ লাখ টাকা দেন। কিন্তু তারা ১০ লাখ টাকা নেওয়ার পর সাঈদকে ফেরত না দিয়ে উল্টো হীরাকে ধরে শাহীন চাকলাদারের (জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক) বাড়িতে নিয়ে যান এবং পুলিশের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন। কিন্তু হীরা তাতে রাজি না হলে পুলিশ সুপার আনিছুর রহমানের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়। মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে আদালতে করা মামলা প্রত্যাহার করিয়ে নেওয়া হয়। এই ইলেকট্রিক শকের কারণে হীরা খাতুন শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান। কিন্তু বাদী আজ পর্যন্ত ছেলে এবং তার বন্ধুর সন্ধান পাননি। এজন্য এখন মামলাটি করেন।









