৬০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেল ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম মুহাম্মদ আনিছুজ্জামানের নামে মামলা করা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনকে আসামি করেছে। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস আর ট্রেডার্সের মালিক শেখ শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলি আদালত-১ মামলাটি করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এস এম মাসুদুর রহমান বলেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সোনাডাঙ্গা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ এপ্রিল অচেনা কিছু লোক বাদীর শিববাড়ী মোড়ের ট্রিবিউন টাওয়ারের অফিসে এসে যুবলীগের পরিচয়ে বলে, আপনাকে শেখ সোহেল (১নং আসামী) এখনই দেখা করতে বলেছেন। বাদী তখন ১নং আসামির বাড়িতে (শেখ বাড়ি) গিয়ে দেখেন ১ ও ২নং আসামি পাশাপাশি বসা। বাদী সামনে দাঁড়ালে শেখ সোহেল বলেন, ‘তুই দুদকে আনিছের নামে (২নং আসামি) অভিযোগ দিয়েছিস, পিস্তল তোর পেছন দিয়ে ঢুকিয়ে ফায়ার করবো’।
বাদী তাকে বলেন, ‘আমি দুদকে কোনও অভিযোগ করিনি’। তখন ১নং আসামি পিস্তল বের করে বাদীর বুক সোজা ধরে বলেন, ‘দুদকে আনিছের নামে যে অভিযোগ করেছিস তার ঝামেলা মেটানোর জন্য কোটি টাকার প্রয়োজন। তুই ৬০ লাখ টাকা চাঁদা দিবি, বাকিটা আনিছ (২নং আসামি) জোগাড় করে দুদকে দেবে। যা এখনই টাকা নিয়ে আয়’।
বাদী উপায়ন্তর না পেয়ে ব্যাংক থেকে নগদ ৪০ লাখ টাকা এবং নিজ অফিসে থাকা ২০ লাখ টাকাসহ মোট ৬০ লাখ টাকা এক ঘণ্টার মধ্যে বিকাল ৫টার মধ্যে শেখ বাড়িতে ১নং আসামি শেখ সোহেলের কাছে নিয়ে দেন। তিনি টাকা নিজে গ্রহণ করে ২নং আসামি আনিছের হাতে দেন এবং বাদীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন, ‘এরপর বাড়াবাড়ি করবি লাশ চিতলমারী বিলে থাকবে, যা ভাইগে যা’। ২নং আসামি বলে, ‘এখন ৬০ লাখ টাকা নিলাম। লাগলে আরও দিবি, বাড়াবাড়ি করলে অস্ত্র দিয়ে চালান দিয়ে দেবো।’
২নং আসামি আরও বলেন, ‘সেদিন ডিজিএফআই অফিসে তিন ঘণ্টা অন্ধকারে রুমে ছিলি না। তোর লাশ কেউ খুঁজে পাবে না।’
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সে সময় শেখ বাড়ির কথায় চলতো বাংলাদেশ। এ কারণে স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতের মামলার পরামর্শ দেন।
বাদীর আইনজীবী এস এম মাসুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮৩, ৩৮৪, ৩৮৭, ৩৮৮, ৩৮৯ ও ৫০৬ ধারায় মামলা করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।








