যশোর হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানকে মারধর করে এবং জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কলেজ এলাকার বাসিন্দা প্রভাবশালী এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা এই কাজ করেছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (০৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর শহরের আরএন রোডে অবস্থিত কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। আহত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম হাবিবুর রহমান হবি। তবে এ ঘটনা মিথ্যা বলে দাবি করেছেন তিনি।
অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কলেজের পাশে আরএন রোডের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান হবি দীর্ঘদিন ধরে কলেজটি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে আছেন। এজন্য নানা রকম চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এলাকার কয়েকজন সন্ত্রাসীকে দিয়ে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমি শিক্ষক মিলনায়তনে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় একদল সন্ত্রাসী নিয়ে কলেজে প্রবেশ করেন হাবিবুর রহমান। তিনি আমার ফোন কেড়ে নিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা জোর করে পদত্যাগপত্রে আমার স্বাক্ষর করিয়ে নেন। যাওয়ার সময় তারা কলেজের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে গেছেন। তাদের এই তাণ্ডবের দৃশ্য কলেজের ওই সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে আছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান হবি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কলেজের অর্থ লোপাট, মার্কেট ভাড়া দিয়ে টাকা আত্মসাতসহ নানা অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত এই অধ্যক্ষের অপসারণ চাই। তার সঙ্গে স্থানীয়দের কয়েক দফা বসার কথা ছিল। তিনি সবসময়ই এড়িয়ে গেছেন। এসব বিষয়ে জানতে কলেজে গেলে টালবাহানা শুরু করেন। পরে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়েছে আমাদের।’
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দেখার জন্য তো প্রশাসন আছে, আপনি দলবল নিয়ে গেলেন কেন এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এলাকার বাসিন্দা হিসেবে আমারও এসব দেখার দায়িত্ব আছে।’
মারধরের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজে গিয়েছিলাম তার পদত্যাগের দাবিতে। এরপর চলে আসি আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। তাকে মারধর করা হয়নি।’
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ দেয়নি। অন্য মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









