খুলনা মহানগরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) হওয়া আটা কিনতে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে নারীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে ছুরিকাঘাতে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার (২০ জানুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত যুবদল নেতার নাম মো. মানিক হাওলাদার (৩৫)। তিনি মহানগরের পুরাতন রেলওয়ে থানা এলাকার লোকো কলোনির মনসুর হাওলাদারের ছেলে এবং ২১ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সহসভাপতি।
সকাল পৌনে ১১টার দিকে মহানগরের ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় কয়েকজন যুবক মানিককে ছুরিকাঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত নারী তুলি বেগম ও তার ভাই সাজ্জাদ হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।
ওএমএসের আটা কিনতে আসা ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আহসান হাবীব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকাল থেকে নগরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় ওএমএসের আটা বিক্রি চলছিল। সেখানে মানুষের দীর্ঘ লাইন ছিল। লাইনে দাঁড়ানোর তদারকি করছিলেন মানিক হাওলাদার। সকাল পৌনে ১১টার দিকে লাইন ভেঙে সামনে আসায় তুলি বেগমের সঙ্গে মানিকের বাগবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে তুলির ভাই মেহেদী হাসান ও সাজ্জাদ হোসেন ঘটনাস্থলে আসেন। তখন তাদের সঙ্গেও মানিকের বাগবিতণ্ডা ও মারামারি হয়। একপর্যায়ে তারা মানিককে ছুরিকাঘাত করেন। স্থানীয় লোকজন তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ঢাকায় নেওয়ার আগেই বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মানিক।’
আহসান হাবীব আরও বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেইসঙ্গে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুলি বেগম ও তার ভাই সাজ্জাদকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’
ঘটনার দুজন প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ওএমএসের আটা কিনতে সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এলাকার হতদরিদ্র মানুষজন। কেউ কেউ প্রভাব দেখিয়ে পরে এসেও আগে আটা নিয়ে যাচ্ছিলেন। আবার অনেকে কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও পাচ্ছিলেন না। মানিক ওএমএসের দায়িত্বশীল কেউ না। তবু দলীয় প্রভাব দেখিয়ে লাইন তদারকি করছিলেন। তুলি বেগম লাইনেই ছিলেন। একজনকে ঠেলে সামনে গেলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন মানিক। মূলত এ নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।
খুলনা মহানগর বিএনপির মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, ‘মানিক হাওলাদার ২১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। কেন ও কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে আমি জানি না।’








