খুলনা মহানগর পুলিশ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং, স্বর্ণ চোরাচালানকারী, মাদক ব্যবসায়ী, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ও কুখ্যাত আসামিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে আলোচিত আল আমিন শেখ ইমন ও অর্ণব সরকার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে।
পুলিশের দাবি, স্ত্রীর প্রেমিকের হাতে খুন হন আল আমিন। আর দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অর্ণবকে হত্যা করা হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) কুতুব উদ্দিন মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কেএমপি সভা কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি আল আমিন শেখ ইমনকে মোটরসাইকেল চালানো অবস্থায় অজ্ঞাত আসামিরা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এই ঘটনায় নিহতের ভাই রাজিবুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। এই ঘটনায় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির সহযোগিতায় নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে অল্প সময়ের মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সমর্থ হয়েছে। ইতিমধ্যে আসামি বিশ্বজিৎ সাহাকে (৪৩) গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, খুলনা বড় বাজারের ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ সাহার সঙ্গে ভুক্তভোগীর স্ত্রী লামিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আল আমিন ঘটনাটি জেনে ফেলে এবং বিশ্বজিৎকে কল করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর ফলে শায়েস্তা করার জন্য বিশ্বজিৎ সাহা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আগের কর্মচারী নাইম ও মুন্সিকে ২০ হাজার টাকায় ভাড়া করে। ঘটনার দিন সকাল ৮টার সময় তিনি, নাইম ও মুন্সী, ট্রাকস্ট্যান্ড কাঁচাবাজারের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় আল আমিন মোটরসাইকেলযোগে সোনাডাঙ্গা থানাধীন ২২ তলা ভবনের সামনে এসে পৌঁছান। তখন বিশ্বজিৎ নিজে আল আমিনকে চিনিয়ে দেন। এ সময় মোটরসাইকেল চালানো অবস্থায় নাইম ও মুন্সি তার পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আহতাবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কুতুব উদ্দিন বলেন, গত ২৪ জানুয়ারি নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার তেঁতুলতলা মোড় এলাকায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অর্ণব সরকারকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনায় অর্ণবের বাবা নিতিশ শীল বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। নগরীর আলোচিত এই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক সোনাডাঙ্গা থানায় একাধিক চৌকস টিম প্রস্তুত করা হয়। গত এক মাস ধরে পুলিশ ঘটনাস্থল এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির সহযোগিতায় নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে এই মামলার রহস্য উদঘাটন করতে সমর্থ হয়েছে। ইতিমধ্যে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ এই মামলার ৯ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। আসামিদের মধ্যে সন্ত্রাসী ইনসান শরিফকে একটি ওয়ান শুটার গান, দুই রাউন্ড গুলি ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়েছে।
এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, অন্য আসামিদের মধ্য শাহরিয়ার সজল ও মাহিন হোসেন শুভ- অর্ণব সরকার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বাকি আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান না করলেও পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং মামলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। মূলত সন্ত্রাসী দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
আলোচিত অর্ণব সরকার হত্যা মামলার গ্রেফতার আসামিরা হলেন- গোলাম রব্বানী (২৬), রমজান শেখ (২৯), জাহিদুল ইসলাম তুরান (২০), সাইফুল গাজী (৩২), জাহিদুল ইসলাম, রাজ উজ্জামান, রিপন ইসলাম (৩৫), ইনসান শরিফ (২৯), আতিক হাসান বান্না (২৫), শাহরিয়ার সজল (২২) ও মাহিন হোসেন শুভ (২১)।
উল্লেখ্য, থানার রেকর্ডপত্র ও সিডিএমএস পর্যালোচনা করে দেখা যায় গেছে, আসামি গোলাম রব্বানী ও আতিক হাসান বান্নার বিরুদ্ধে কোনও মামলা নাই। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও মাদকের একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আরও মামলা আছে কি না যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।









