ঝিনাইদহ জেলার শিশুতলা এলাকা থেকে সৎমা কর্তৃক ৬ বছরের শিশু হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার প্রধান পলাতক আসামিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬-এর সিপিসি-২, ঝিনাইদহ।
র্যাব-৬-এর সিপিসি-২, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর নাঈম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভিকটিম শিশু মাহমুদা (৬) জন্মের সময় মাতৃহারা হয়। গত ১ মার্চ বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর থানাধীন ভোমরাডাঙ্গা গ্রামের এলাকায় সকলের অগোচরে ভিকটিমের সৎমা মোছা. বন্যা খাতুন (১৯) তরল পানীয়ের সঙ্গে বিষ মিশ্রিত করে ভিকটিম মাহমুদাকে পান করায়। কিছুক্ষণ পর ভিকটিমের মুখে কথা শুনে তার পরিবারের লোকজন কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ভিকটিমের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সেখান থেকে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে যায়। সেখানে ৩ দিন চিকিৎসার পর গত ৩ মার্চ উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আইসিইউতে ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু ঢাকা মেডিকেল কলেজে আইসিইউতে বেড ফাঁকা না থাকায় ভিকটিমকে নিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। পরবর্তীতে ৫ মার্চ ভিকটিম বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে ভিকটিমকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। গত ৬ মার্চ ভিকটিমের অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভিকটিম মৃত্যুবরণ করে।’
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর পূর্বে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, তার আম্মুর (আসামি বন্যা) কাছ থেকে তরল পানীয় খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার বুকে ব্যথাসহ বমি বমি ভাব শুরু হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ভিকটিম মাহমুদার বাবা মো. শাহীন আলম (৩০) বাদী হয়ে ৭ মার্চ কোটচাঁদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামি করা হয় সৎমা মোছা. বন্যা খাতুনকে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৬-এর ঝিনাইদহ ক্যাম্প মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং ৮ মার্চ দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ঝিনাইদহের মহেশপুর থানাধীন চাঁদপুর গ্রামস্থ শিশুতলা এলাকা থেকে মামলার প্রধান পলাতক আসামি সৎমা মোছা. বন্যা খাতুনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আটক করে। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ভিকটিমের বাবা মামলার বাদী মো. শাহীন আলম একজন সৌদিপ্রবাসী। তিনি ৬-৭ বছর আগে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক প্রথম স্ত্রী মৃত আফরোজা খাতুনকে বিবাহ করেন। ভিকটিম মাহমুদার জন্মের সময় ভিকটিমের মা মৃত্যুবরণ করেন। ভিকটিমকে মো. শাহীন তার পরিবারের নিকট রেখে সৌদি আরব চলে যান। পরবর্তীতে ভিকটিমকে ভালোভাবে লালন-পালনের উদ্দেশ্যে ভিকটিমের বাবা একই গ্রামের মোছা. বন্যা খাতুনকে পারিবারিকভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে করেন। পরে ৭ জানুয়ারি বাদী সৌদি আরব থেকে বাড়িতে আসলে বাদীর দ্বিতীয় স্ত্রী আসামি বন্যা খাতুনের সাথে ভিকটিম মাহমুদাকে নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য এবং দাম্পত্যকলহ শুরু হয়।
পরে ১ মার্চ বাদী বাজার থেকে বাড়িতে এসে দেখতে পায় ভিকটিম মাহমুদা বারান্দার খাটে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। ভিকটিমের বাবা ভিকটিমকে এভাবে শুয়ে থাকতে দেখে শুয়ে থাকার কারণ জিজ্ঞেস করতেই ভিকটিম নীল রঙের বমি করে। ভিকটিম থেকে জানতে পারেন যে, তিনি বাজারে যাওয়ার পর তার সৎমা প্লাস্টিকের বোতলে করে তরল পানীয় খাওয়ায়। পরে ওই তরল পানীয় সম্পর্কে বাদী তার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলে আসামি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলতে থাকেন।









