খুলনায় ছেলেকে হত্যার অভিযোগে বাবা মনির খান ও সৎ মা আমিরুণ বেগমসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন গর্ভধারিণী মা পারুল বেগম। বৃহস্পতিবার খুলনার মূখ্য মহানগর হাকিমের আমলী আদালত ‘ঘ’ অঞ্চলে মামলাটি দায়ের হয়। বিচারক মো. ফারুক ইকবাল মামলাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লবনচরা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন বটিয়াঘাটার শান্তিনগর তেঁতুলতলা এলাকার আজমল হোসেন লিটন, একই এলাকার বাদশা মিয়া, জামাল বয়াতি, তার ভাই শওকত বয়াতি, মামুন মাঝি, ইমরান হাওলাদার, হায়দার শেখ, আলম হাওলাদার, গণি যাদুকর, আব্দুল কালাম খাঁ, আসমা বেগম, ফরিদা বেগম এবং মহসিন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৬ বছর আগে বাদী পারুল বেগমের সঙ্গে মনির খানের বিয়ে হয়। তাদের শহীদুল ইসলাম খান নামে একটি ছেলে আছে। কিন্তু মনির এর মধ্যে আরও সাতটি বিয়ে করায় স্ত্রী পারুল ও তার ছেলের খোঁজ খবর নেন না। বাদী বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে এবং তার শিশু পুত্র ওয়ার্কশপে কাজ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু নেশাগ্রস্ত স্বামী মনির প্রায়ই তাদের কাছে টাকা-পয়সা দাবি করতেন। টাকা না দিলে শারীরিক নির্যাতন করতেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে মাকে নির্যাতন করতে থাকলে ছেলে শহীদুল প্রতিবাদ করে। ওই সময় মনির ছেলেকে মারধর করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। পরদিন বিকালে শহীদুল মহানগরীর নিউ মার্কেটে কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হলে মনিরের প্ররোচণায় আসামি লিটন ও বাদশা তাকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেন। ওই দিন রাতে তাকে অপর আসামি আসমা ও ফরিদা নুডুলস রান্না করে খেতে দেন। খাওয়া শেষে শহীদুলকে তার বাবা মনির মাথাভাঙ্গা বিলে ডাকছে বলে পাঠিয়ে দেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকালে শহীদুলের গলাকাটা লাশ ওই বিলে পড়ে আছে বলে মনির লোক দিয়ে পারুলকে খবর দেন। এ ঘটনার পর মনির ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পারুলকে কিছু না জানিয়ে অপর স্ত্রী আমিরুণকে নিয়ে ১৯ জনকে আসামি করে লবনচরা থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ আজমল হোসেন লিটনকে গ্রেফতারের পর থেকে মনির আত্মগোপন করেন।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহানারা পারভীন বলেন, আদালতের বিচারক মামলাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লবনচরা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী এ ঘটনায় আগে মনির কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী বাবুলই দুটি মামলা একসঙ্গে তদন্ত করবেন। আগামী ২৭ এপ্রিল মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মহানগরীর লবনচরার মাথাভাঙ্গা মৌজার একটি বিল থেকে দোকান কর্মচারী শিশু শহিদুল ইসলাম খানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা মনির খান বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে লবনচরা থানায় মামলা করেন। এরপর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
/বিটি/








