সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ২ টা পর্যন্ত জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষা করেও না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাকচাপায় হত্যা করেছেন চালক সুজ্জাত আলী। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা স্বীকার করেছেন এই চালক।
রবিবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে র্যাব-৬ ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর ফজলে রাব্বী প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে জ্বালানি তেল না পেয়ে বাগবিতণ্ডার পর নড়াইলে তুলারামপুর এলাকায় ‘তানভীর ফিলিং স্টেশনের’ ম্যানেজার নাহিদ সরদারকে ট্রাকচাপায় হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় রবিবার ট্রাক ও অভিযুক্ত চালক সুজ্জাত আলীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব ও পুলিশ। রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চালককে যশোরের বাঘারপাড়া থেকে আটক করেন র্যাব-৬ এর সদস্যরা।
অন্যদিকে দুপুরে ট্রাকটি বেনাপোল পৌর ট্রাক টার্মিনাল থেকে জব্দ করেছে নাভারণ হাইওয়ে পুলিশ। আটক সুজ্জাত আলী নড়াইল সদর উপজেলার পেড়লী গ্রামের মৃত ছাইদুর রহমানের ছেলে।
র্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে চালক সুজ্জাত আলী নড়াইল সদর উপজেলার ‘তানভীর ফিলিং স্টেশনে’ ট্রাক নিয়ে ডিজেল নিতে যান। পাম্পে পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত না থাকায় ম্যানেজার নাহিদ সরদার তেল দিতে অপারগতা জানান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয় এবং চালক সুজ্জাত ম্যানেজারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান।
তিনি আরও জানান, পাম্পের ডিউটি শেষে রাত ২টার দিকে নাহিদ ও তার সহকর্মী জিহাদ মোল্লা মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। তুলারামপুর রেল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি পেছন থেকে তাদের সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নাহিদ নিহত ও জিহাদ মোল্লা গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চালক সুজ্জাত পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬ যশোরের সদস্যরা অভয়নগরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এদিকে এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটি (যশোর-ট ১১-৬০৪০) রবিবার দুপুর ১২টার দিকে বেনাপোল পৌর ট্রাক টার্মিনাল থেকে নড়াইল ডিবি পুলিশ, যশোর ডিবি পুলিশ ও বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে উদ্ধার করা হয়। পরে বিকালে ট্রাকটি নাভারণ হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ট্রাকটি টার্মিনালে পার্কিং অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।









