মাগুরায় সুমন মোল্যা (১৬) নামের এক ইজিবাইক চালককে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মোবাইল ফোন বন্ধক রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে সুমনকে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে তারই পরিচিত কয়েকজন তরুণ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ছয় জনকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
নিহত সুমন মোল্যা মাগুরা পৌরসভার মীরপাড়া এলাকার শরিফুল ইসলামের ছেলে এবং পেশায় ইজিবাইক ছিল। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মূলহোতা তরিকুল ইসলাম (২৬), মিনহাজ হোসেন (২৪), জুয়েল হোসেন (২৩), শাকিব শেখ (১৯), হৃদয় হোসেন (২৮) এবং আরও একজন। গত ৩ এপ্রিল বিকালে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মীরপাড়ার একটি কলাবাগান থেকে সুমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানিয়েছেন, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এ ঘটনায় জড়িত ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, মোবাইল ফোন বন্ধক রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি মোবাইল ফোন বন্ধক রাখা নিয়ে সুমনের সঙ্গে তারই পরিচিত ও বন্ধু পরিচয়ধারী কয়েকজনের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। গত ৩১ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সুমনের মাথায় আঘাত করলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। এরপর গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে তার শ্বাসনালি কেটে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ পাশের একটি কলাবাগানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। নিখোঁজ হওয়ার পর ২ এপ্রিল সুমনের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। ৩ এপ্রিল বিকালে মীরপাড়া এলাকার মাছের ঘের সংলগ্ন কলাবাগান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ৪ এপ্রিল নিহতের দাদি জাহানারা বেগম বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। তদন্তে প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, তারিকুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, ‘একটি মোবাইল ফোন বন্ধক রাখাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। জড়িতরা সবাই ভিকটিমের পরিচিত ও সমবয়সী ছিল। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিদের কেউ কেউ মাদকাসক্ত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’








