দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা দিলেন, তবু সাত দিনেও মুক্তি মেলেনি

খুলনা প্রতিনিধি
০৮ জুন ২০২৬, ০৫:০২ আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০৫:০২

সুন্দরবনে গিয়ে অপহরণ হওয়া সাতক্ষীরার শ্যামনগরের চার জেলে দস্যুদের দাবি করা টাকা দেওয়ার সাত দিনেও মুক্তি পাননি। পরিবারের সদস্যরা মুক্তির জন্য দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা দস্যুদের দিয়েছেন। টাকা পেয়েও দস্যুরা তাদের না ছাড়ায় স্বজনরা শঙ্কায় রয়েছেন।

জেলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মালঞ্চ নদীর চালতে বেড় ও সুবদ খাল থেকে শ্যামনগরের জেলে ইয়াছিন খাঁ, শাহাজান খাঁ, শাহাজান আলী ও শরিফুলকে তুলে নিয়ে যায় দস্যুরা। এরপর কালিনগরের সফিকুল ও শাহাজানের নেতৃত্বাধীন দস্যু নানাভাই বাহিনী জিম্মি চার জেলের মুক্তির জন্য সাড়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। দেন দরবারের মাধ্যমে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকায় স্বজনের সমঝোতা হয়।

অপহরণের শিকার জেলে শাহাজান আলীর চাচাতো ভাই আবুল হোসেন বলেন, মুক্তিপণ আদায় করে জিম্মি অন্য জেলেদের ছেড়ে দিয়েছে দস্যুরা। কিন্তু দস্যুদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলে শাহাজানসহ চার জনকে এক সপ্তাহ ধরে আটকে রাখা হয়েছে। দস্যুরা তিন জনের জন্য মাথাপিছু ৫০ হাজার করে ও ইয়াছিনের জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ভিত্তিতে ইয়াছিনের জন্য এক লাখ ২০ হাজার ও অন্য তিন জনের জন্য ৪০ হাজার টাকা করে বিকাশে পরিশোধ করা হয়েছে। এরপরও তাদের না ছাড়ায় সবার পরিবারে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। 

জিম্মি অন্য এক জেলের বাবা জানান, তার ছেলে জাল ফেলে দুই সহযোগীর সঙ্গে নৌকায় ঘুমিয়ে ছিল। দস্যুরা নৌকার পাশে এসে তার জামা ধরে ডাকাডাকি শুরু করে। এ সময় সহযোগীকে বাঘে ধরেছে–মনে করে লাফিয়ে উঠে ছেলে হাতের পাশে থাকা দা নিয়ে দস্যুদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে দস্যুরা। তারা মারধর করে বেশি মুক্তিপণ দাবি করছিল। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত মুক্তিপণ পরিশোধ করেন। কিন্তু নৌকা না পাওয়ার অজুহাতে তাদের আটকে রাখা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী কোনও সংস্থা এ বিষয়ে ন্যূনতম গুরুত্ব দেয়নি বলেও তার অভিযোগ।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বলেন, জুনের শুরু থেকে সুন্দরবনে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। এসব জেলে আগেই মাছ শিকারে যান। ফিরে আসার আগে দস্যুদের কবলে পড়ে। বর্তমানে দস্যুদের ধরতে কাজ করছে কোস্টগার্ড। তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, সুন্দরবনে কোনও জেলে জিম্মি হলে সহযোগীরা সমঝোতার ভিত্তিতে তাকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন। এ কারণে তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করে। তারপরও নিজস্ব গোয়েন্দা নজরদারিতে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে।

/এএম/এফআর/

/এফআর/
সম্পর্কিত
সুন্দরবনে ‘দাদা ভাই বাহিনীর’ সঙ্গে কোস্টগার্ডের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ 
রক্ষা পেলো না মসজিদের বাক্সও, চুরি হয়ে গেলো টাকা
আদালত থেকে ফেরার পথে ব্যবসায়ী নেতাকে দিনদুপুরে গুলি
সর্বশেষ খবর
ভবন-বেড-যন্ত্রপাতি সবই আছে, তবু ৮ বছরেও চালু হয়নি চার স্বাস্থ্যকেন্দ্র
ভবন-বেড-যন্ত্রপাতি সবই আছে, তবু ৮ বছরেও চালু হয়নি চার স্বাস্থ্যকেন্দ্র
বিশ্বকাপের আগে ওয়ানডেতে নতুন পরীক্ষা নিউজিল্যান্ডের
বিশ্বকাপের আগে ওয়ানডেতে নতুন পরীক্ষা নিউজিল্যান্ডের
ব্রাজিলে ভোটে হেরে যে দেশে পরিবারসহ পড়ি জমালেন বলসোনারো
ব্রাজিলে ভোটে হেরে যে দেশে পরিবারসহ পড়ি জমালেন বলসোনারো
বছরের পর বছর বন্দরেই পড়ে আছে বিপজ্জনক রাসায়নিক কনটেইনার, বিস্ফোরণঝুঁকি এড়াতে কী করছে প্রশাসন?
বছরের পর বছর বন্দরেই পড়ে আছে বিপজ্জনক রাসায়নিক কনটেইনার, বিস্ফোরণঝুঁকি এড়াতে কী করছে প্রশাসন?
সর্বাধিক পঠিত
২১ লাখ ফলোয়ার, ভোট পেলেন মাত্র ৩৩টি
২১ লাখ ফলোয়ার, ভোট পেলেন মাত্র ৩৩টি
জেলেদের কাছ থেকে উদ্ধার ৯০ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ
জেলেদের কাছ থেকে উদ্ধার ৯০ কেজি ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, এরপর যা ঘটলো মাসুদের সঙ্গে
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, এরপর যা ঘটলো মাসুদের সঙ্গে
‘আপনাদের সম্মানি দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন’
‘আপনাদের সম্মানি দিচ্ছি, ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেন’
গরু-ছাগল ছেড়ে মরুর দুম্বা পালন, নতুন সম্ভাবনা দেখছেন খামারি
গরু-ছাগল ছেড়ে মরুর দুম্বা পালন, নতুন সম্ভাবনা দেখছেন খামারি