অবশেষে নির্জনার বাবাকে গ্রেফতার করলো র‍্যাব

খুলনা প্রতিনিধি
১৮ জুলাই ২০২৬, ১৯:২৮আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১৯:২৮

খুলনায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনাকে (১৭) হত্যার ঘটনায় তার বাবা আলীম হোসেন আকাশকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৬। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডুমুরিয়া বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

র‍্যাব-৬-এর স্পেশাল কোম্পানি ও কেএমপির সদর থানা পুলিশের যৌথ দল এ অভিযান চালায়। বিকালে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ।

তিনি জানান, র‌্যাব-৬-এর স্পেশাল কোম্পানি এবং কেএমপির সদর থানা পুলিশের যৌথ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেলা ২টা ৫০ মিনিটে ডমুরিয়া থানার ডুমুরিয়া বাজারের আব্দুল কুদ্দুসের চায়ের দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় খুলনা সদর থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী নির্জনা হত্যা মামলায় তার বাবা আলীম হোসেন আকাশকে (৪২) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আকাশকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই রাতে নির্জনাকে হত্যার পর তার লাশ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় খুলনা সদর থানায় কর্মরত নারী এসআই লাভলী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পরবর্তী সময়ে তদন্ত ও মাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে পারিবারিক কলহের জেরে বাবা আলীম হোসেন ও মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা মেয়েকে হত্যা করেছেন। ঘটনার পর নিহতের মাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গত ১০ জুলাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে তিনি বলেছেন, বাবার কথার অবাধ্য হওয়ায় রাগের মাথায় নেশাগ্রস্ত আলীম হোসেন মেয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত করেন। এতে মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এরপর লাশ বস্তাবন্দি করে নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে পালিয়ে যান বাবা। ঘটনার পর থেকেই আলীম হোসেন আত্মগোপনে ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৮ জুলাই রাতে মহানগরীর ইকবাল নগর স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নির্জনার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হয়। ৯ জুলাই সকালে মা হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। এরপর তাদের বাসায় গিয়ে দরজা তালাবদ্ধ অবস্থায় পায় পুলিশ। পাশাপাশি মেয়ের মৃত্যু নিয়ে মা ভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে মেয়ের দুই বিয়ের কথা বলেন। শুক্রবার সকালে অসংলগ্ন কথার কারণে তাকে আটক করা হয়। এরপরও প্রথমদিকে ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত তিনি স্বীকার করেন দুই বিয়ে ও বাড়ির বাইরে থাকার কারণে মেয়ের ওপর রাগ ছিল বাবার। বাবা নেশাও করতেন। ওই দিন সন্ধ্যার দিকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রাগ করে মেয়ের মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান নির্জনা। কিছুক্ষণ পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এরপর তড়িঘড়ি করে লাশ বস্তাবন্দি করে ওই আবাসিক এলাকায় ফেলে পালিয়ে যান বাবা। এ কাজে সহযোগিতা করেন মা। বাবার হাতে হত্যাকাণ্ডের এ বর্ণনা আদালতে দেওয়ার পর মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

/এএম/ 
সম্পর্কিত
চাঁদা আদায়ের ভিডিও ভাইরাল, দুজনকে হাতেনাতে ধরলেন প্রশাসক
প্রেমিকের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে প্রেমিকাকে ধর্ষণ, গ্রেফতার ৬
বিকালে ১০০ রাকাত নামাজ পড়ে ভালো হওয়ার অঙ্গীকার, রাতেই ইয়াবাসহ গ্রেফতার
সর্বশেষ খবর
প্রতিবেদন প্রচারের পর চ্যানেল ওয়ানে ‘সাইবার হামলার’ অভিযোগ
প্রতিবেদন প্রচারের পর চ্যানেল ওয়ানে ‘সাইবার হামলার’ অভিযোগ
তারেক রহমানের সঙ্গে রংপুর বিভাগের বিএনপি নেতাদের বৈঠক 
তারেক রহমানের সঙ্গে রংপুর বিভাগের বিএনপি নেতাদের বৈঠক 
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে: তথ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে: তথ্যমন্ত্রী
ভারত থেকে আমদানি কমলেও গরু-পেঁয়াজের সংকট হয়নি: সংস্কৃতিমন্ত্রী
ভারত থেকে আমদানি কমলেও গরু-পেঁয়াজের সংকট হয়নি: সংস্কৃতিমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
টাকা ধার দিয়ে ফেরত পাচ্ছেন না, আদায়ের ভালো উপায় কী?
টাকা ধার দিয়ে ফেরত পাচ্ছেন না, আদায়ের ভালো উপায় কী?
মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন, আলোচনায় যারা
মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন, আলোচনায় যারা
এনবিআরের সার্ভার হ্যাক করে কোটি কোটি টাকার পণ্য খালাস, যেভাবে ধরা পড়লো পেশাদার ‘হ্যাকার’ 
এনবিআরের সার্ভার হ্যাক করে কোটি কোটি টাকার পণ্য খালাস, যেভাবে ধরা পড়লো পেশাদার ‘হ্যাকার’ 
কারাগারে আসার ৮ দিনেই তরুণীর দুঃসাহসিক কাণ্ড, যেভাবে পালালেন
কারাগারে আসার ৮ দিনেই তরুণীর দুঃসাহসিক কাণ্ড, যেভাবে পালালেন
ইয়ামালের সেই ছবি নিয়ে ফাইনালের আগে যা বললেন মেসি 
ইয়ামালের সেই ছবি নিয়ে ফাইনালের আগে যা বললেন মেসি