খুলনায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন জেলা পুলিশের পরিদর্শক শাহ আলম (৪৩)। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মহানগরীর সদর থানাধীন কলেজিয়েট স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তার দুটি মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রূপসা নদীর ওপারে অভিযান শেষে রিকশায় করে শহরে ফিরছিলেন শাহ আলম। কলেজিয়েট স্কুলের সামনে পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তার পথরোধ করে। এ সময় মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেন তিনি। এতে ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে দুটি মোবাইল ফোন ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে শাহ আলমের দুই হাত ও পায়ে জখম হয়েছে। বিশেষ করে তার হাতের কবজির আঘাত গুরুতর।
আহত অবস্থায় তিনি রিকশায় করে প্রথমে পুলিশ হাসপাতালে যান। পরে তাকে সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শুক্রবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার পরিবার ঢাকায় থাকে।
খুলনা জেলা এসপি ওমর ফারুক বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সহায়তায় অভিযান চলছে।
খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর থেকে খুলনা জেলা পুলিশের আওতাধীন নয়টি থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। ৭ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার ওমর ফারুক জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। স্বাভাবিক কার্যক্রমের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে অভিযান পরিচালনার কথা জানান তিনি। এতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি এসআরবি-৬ ও মহানগর পুলিশ সমন্বিতভাবে অংশ নিচ্ছে।
অভিযানের আওতায় রূপসা, দিঘলিয়া, তেরখাদা ও বটিয়াঘাটা- এই চার থানাকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযান শুরুর সাত দিনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছিলেন এসপি।
এদিকে, গত ৬ অক্টোবর খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
তিনি বলেন, এসব অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেন তিনি। তবে বিপথগামীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে আইনি প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানান হুইপ।