নেত্রকোনার পূর্বধলায় শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছে রুবেল মিয়া (২৫) নামের এক আসামি। সে একাধিক হত্যা মামলার আসামি। বুধবার (১১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
রুবেল পূর্বধলার গরুয়াকান্দা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে। পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভি রঞ্জন দেব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
অভি রঞ্জন দেব বলেন, ‘গত সোমবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে আসামি রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রুবেল মিয়া শৌচাগারে যায়। সেখান থেকে কৌশলে শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে সে পালিয়ে যায়। লোহার রডগুলো জং ধরে পুরাতন হয়ে থাকায় এবং তার শরীর চিকন হওয়ায় সে সহজে পালিয়ে যায়।’
ওসি আরও জানান, থানায় কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) এসএম মোজাম্মেলসহ আসামির দায়িত্বে তোফাজ্জল হোসেন, মানিক মিয়া, মাসুদ রানা ও কামরুল ইসলাম এই চার পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন। তাদের মধ্যে কনস্টেবল তোফাজ্জল হোসেন সার্বক্ষণিকভাবে আসামির দায়িত্বে ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুবেল মিয়া পূর্বধলার গায়লাপাড়া গ্রামের মোটরসাইকেল চালক মো. (২৫) কাকন মিয়া হত্যাকাণ্ডের আসামি। গত ২৫ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে পূর্বধলা-ডেওটুকোন সড়কের ছোচাউড়া এলাকায় যাত্রীবেশে মোটর সাইকেলটি ছিনিয়ে নিতে চালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রুবেল। পরদিন সকালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাকন মিয়া মারা যান। এ দিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে কাকনের বাবা আবুল কাশেমও (৬৫) ওই রাতেই মারা যান।
ঘটনায় কাকনের বড় ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় মামলা করেন। এর পর ২৮ আগস্ট রাতে ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ময়নুদ্দিন রহমান (২২) নামে এক যুবককে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। তার স্বীকারোক্তিতে গত সোমবার সন্ধ্যায় রুবেল মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রুবেলের নামে দুর্গাপুর থানায় আরও একটি হত্যা মামলা রয়েছে।
নেত্রকোনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম বলেন, ‘পলাতক ওই আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। পালিয়ে যাওয়ায় তার নামে আরও একটি মামলা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: ২০০ বছর পর সুনামগঞ্জের সুমেশ্বরী নদীতে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ








