খুন, ধর্ষণ আর শহরের বাসা-বাড়িতে নিয়মিত চুরির ঘটনায় আতঙ্কগ্রস্ত নেত্রকোনাবাসী। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছে বাসিন্দারা। আইনের ফাঁক দিয়ে অপরাধীদের বেড়িয়ে যাওয়া ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণেই সমাজে অপরাধের মাত্রা বেড়ে চলেছে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।
তবে পুলিশ প্রশাসনের দাবি, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু দুর্ঘটনা ঘটেছে। জরুরি ভিত্তিতে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
নেত্রকোনা জেলা পুলিশের অপরাধ শাখা সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের শুরু থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত খুনের ঘটনা ঘটেছে ৩৬টি। এছাড়া ধর্ষণের অভিযোগে বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে ৫৬টি। এ পর্যন্ত পুলিশের কাছ থেকে আসামি পালিয়েছে তিন বার। এছাড়াও চুরি ও ছিনতাই নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
চলতি অক্টোবর মাসের বেশ কয়েকটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চলতি মাসের ৩ অক্টোবর কৃষকের লাশ উদ্ধার, ১১ অক্টোবর একাধিক হত্যা মামলার আসামি রুবেলের পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়া, ১৩ অক্টোবর শহরের সাতপাই নিজ বাসায় শিক্ষক দম্পতি খুনের ঘটনা, ১৭ অক্টোবর কেন্দুয়ায় কলেজ ছাত্রীর ওপর বখাটের হামলা, ২০ অক্টোবর জেলার কলমাকান্দায় পুলিশের হাত কামড়ে মাদক মামলার আসামি পালিয়ে যাওয়াসহ নানা ঘটনায় আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা যখন বাসা থেকে বের হই তখন বখাটেদের নানা আপত্তিকর কথা শুনতে হয়। তারা নানাভাবে আমাদের ভয়-ভীতিও দেখায়। ফলে আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি।’
নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হায়দার জাহান চৌধুরী বলেন, ‘এখন বাসা বাড়িতে মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারে না। সবসময়ই একটা আতঙ্ক কাজ করে। শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় প্রতিদিনই চুরির ঘটনা ঘটে।’
একই এলাকার বাসিন্দা জিয়াউর রহমান খোকন জানান, মাদকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় অনেক ভাল পরিবারের মাদকসেবী ছেলে মেয়েরাও এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
নেত্রকোনা জেলার সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি শ্যামলেন্দু পাল বলেন, ‘এ ব্যপারে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত প্রশাসনের। না হলে অপরাধ প্রবণতা বাড়বে এবং সামাজিক অবস্থা আরও খারাপ হবে।’
নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জয়দেব চৌধুরী বলেন, ‘শহরের অপরাধ কমাতে পুলিশ বিশেষভাবে কাজ করছে। জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অচিরেই নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।’







