জামালপুরে মানবাধিকার কর্মকর্তার পরিচয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও চেক ডাকাতির ঘটনায় ভুয়া মানবাধিকার কর্মকর্তা কাউছার আহম্মেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে শহরের তমালতলা এলাকার কথাকলি মার্কেট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
শহরের পশ্চিম কাচারীপাড়ায় মো. আব্দুল আজিজের মেয়ে পপি আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা অগ্রণী ব্যাংক জামালপুর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ছিলেন। এখন অবসরে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলিং বেল শুনে বাবা বাসার দরজা খোলেন। এরপর দুই পুরুষ ও তিন নারী বাসা ভাড়ার কথা বলে আমাদের রুমে ঢুকেন। বাসা ভাড়া নিয়ে কথা শেষে বাবা তাদের বিদায় দেওয়ার জন্য দরজা খুলতে গেলে তারা বাবাকে বাধা দেয় এবং সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করে। বাবা ভয় পেয়ে যান। পরে তারা নিজেদের মানবাধিকার কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেয়।’
পপি আক্তার আরও বলেন, ‘এরপর তারা বাবাকে দিয়ে জোরপূর্বক একটি মেয়েকে ধর্ষণের স্বীকারোক্তি নিয়ে মোবাইল ভিডিও ধারণ করে। এরপর তারা কয়েক লাখ টাকা দাবি করলে বাবা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন তারা আমাদের বাসার আলমারি খুলে নগদ ৭৬ হাজার টাকা, ২ ভরি স্বর্ণের একটি বালা, ১ ভরি স্বর্ণের একটি চেইন এবং ৩৫ হাজার টাকার দুটি ও ৩০ হাজার টাকার একটি চেক নিয়ে নেয়। এ সময় বাবার কাছে আরও টাকা দাবি করলে তিনি পরে টাকা দেবে বলে তাদের একজনের ফোন নাম্বার রেখে দেয়। বাবাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দেড়ঘণ্টা পর তারা চলে যায়। শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে বাবা জামালপুর সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার বলেন, অভিযোগটি আসার পর কাউছার আহম্মেদকে শনিবার দিবাগত রাতে শহরের তমালতলা এলাকার কথাকলি মার্কেটের স্টুডিওর দোকান থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ৩টি চেকবইও জব্দ করে সদর থানা পুলিশ। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি।







