মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নেত্রকোনার আতাউর রহমান ননী ও মো.ওবায়দুল হক তাহেরের মামলার রায় দেওয়া হবে যে কোনও দিন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হওয়ায় মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। আজ রবিবার রাষ্ট্রপক্ষে আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ায় মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার-উল হক এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে বুধবার অভিযোগভিত্তিক যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন উভয়পক্ষ। আসামিপক্ষে ননী-তাহেরের আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার এবং রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
প্রসিকিউশন তার যুক্তিতর্কে দাবি করেন, অভিযুক্ত আতাউর রহমান ননী ও ওবায়দুল হক তাহেরের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে। এই দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানান প্রসিকিউশন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষ দাবি করেছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেননি প্রসিকিউশন। তাই এসব অভিযোগ থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হোক।
ননী-তাহেরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তাসহ প্রসিকিউশনের ২৩ জন সাক্ষী। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে একজন সাফাই সাক্ষীর নাম দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সাক্ষীকে হাজির করতে পারেননি তারা। গত বছরের ৫ এপ্রিল প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তাহের-ননীর বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ২ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা,গণহত্যা, অপহরণ,দেশান্তরিতকরণ, বাড়িঘরে আগুন ও লুটপাটের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
২০১৪ সালের ১১ ডিসেম্বর তাহের-ননীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ৪ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন প্রসিকিউশন। তার আগে ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে ৬৩ পৃষ্ঠার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। মামলাটি তদন্ত করেছেন তদন্ত সংস্থার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহজাহান কবীর।
২০১৪ সালের ১২ আগস্ট তাহের ও ননীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর পরপরই নেত্রকোনা পৌর শহর থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। ১৩ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাদেরকে কারাগারে পাঠান ট্রাইব্যুনাল।
/ইউআই/এনএস/এসএম/








