X
শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২
২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

সেই দম্পতির মৃত্যুর জন্য পরকীয়া প্রেমিকই দায়ী

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
০১ জুলাই ২০২২, ০৫:০৪আপডেট : ০১ জুলাই ২০২২, ০৫:০৮

নেত্রকোনার মদনে পরকীয়া প্রেমের জেরে স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বামী। এ ঘটনার ৮ মাস পর বুধবার রাতে (২৯ জুন) অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিক রুকেল মিয়াকে আটক করে মদন থানার পুলিশ। অভিযুক্ত রুকেল মিয়ার বিরুদ্ধে মদন থানার এসআই মাসুদ জামালী বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার একটি মামলা দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত রুকেল মিয়া নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের গাবরতলা গ্রামের ভিক্কু মিয়ার ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে বালালী বাজারে আপেল মাহমুদের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে আসছে।

এর আগে ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর সকালে উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়র পরিষদ ভবন সংলগ্ন বালালী গ্রামের নিজ বসতঘর থেকে হিমা আক্তারের (৪৬) রক্তাক্ত মরদেহ ও স্বামী নান্দু মীরের (৫৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত নান্দু মীর (৫৫) উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের আলমশ্রী গ্রামের মৃত শামছু মীরের ছেলে। প্রায় ২০ বছর আগে বালালী গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নাফের মেয়ে হিমা আক্তারকে (৪৬) বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই নান্দু মীর তার শ্বশুর বাড়ি বালালী গ্রামে বসবাস করছিলেন। দাম্পত্য জীবনে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে ও পাঁচ বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।

এদিকে হিমা আক্তার তার ছোট বোন জামাই আপেল মাহমুদের দোকানের কর্মচারী রুকেল মিয়ার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি তার স্বামী নান্দু মীর জানার পর দুই জনের মধ্যে কলহ তৈরি হয়। এ নিয়ে দুই পরিবারের লোকজন কয়েকবার শালিশ বৈঠক করে মীমাংসা করেন। মীমাংসার পরও পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে অবৈধ মেলামেশা চালিয়ে যায় হিমা আক্তার। এই ক্ষোভে স্ত্রীকে রেখে নিজ বাড়ি আলমশ্রী গ্রামে চলে যায় নান্দু মীর। পরে নান্দু মীর ১০ অক্টোবর বাড়িতে এসে ওই রাতেই নিজের বসতঘরে স্ত্রীকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেন।

এ ঘটনার পরদিন নিহত হিমা আক্তারের ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দয়ের করেন। অপর দিকে নান্দু মীরের আত্মহত্যার ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। পুলিশের দীর্ঘ তদন্তের পর ঘটনার নেপথ্যে পরকীয়া প্রেমিক রুকেল মিয়ার নাম প্রকাশ পায়। এতে বুধবার রাতে বালালী বাজারের আপেল মাহমুদের দোকান থেকে অভিযুক্ত রুকেলকে আটক করে মদন থানার পুলিশ। পরে মদন থানার এসআই মাসুদ জামালী বাদী হয়ে রুকেল মিয়ার বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। রুকেল মিয়াকে বৃহস্পতিবার নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, পুলিশের দীর্ঘ তদন্তের পর স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামীর আত্মহত্যার প্ররোচনায় পরকীয়া প্রেমিক রুকেল মিয়ার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। রুকেল মিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। তাকে নেত্রকোনার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

/এমপি/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
গুগল লেন্স যেভাবে কাজে লাগাতে পারেন
গুগল লেন্স যেভাবে কাজে লাগাতে পারেন
প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে সড়কের পাশে নেতাকর্মীরা
প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে সড়কের পাশে নেতাকর্মীরা
হাতির জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির তাগিদ
হাতির জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির তাগিদ
জম্মু-কাশ্মিরে বিহারের এক শ্রমিককে হত্যা
জম্মু-কাশ্মিরে বিহারের এক শ্রমিককে হত্যা
এ বিভাগের সর্বশেষ
মোবাইলফোনের টাওয়ার থেকে নামানো হলো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে
মোবাইলফোনের টাওয়ার থেকে নামানো হলো মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে
ধ্বংস করা হলো কোটি টাকার মাদক
ধ্বংস করা হলো কোটি টাকার মাদক
ইউএনও’র অফিসে চুরির ঘটনায় তিন যুবক আটক
ইউএনও’র অফিসে চুরির ঘটনায় তিন যুবক আটক
ইউএনও অফিস থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে গেলো চোর
ইউএনও অফিস থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে গেলো চোর
পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: ৯ পুলিশসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা 
পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ: ৯ পুলিশসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা