‘পেটের ব্যথা এবং আলসারের সমস্যা নিয়ে ঈদের আগে হাসপাতালে ভর্তি হলাম। ভাবছিলাম চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদ করমু। কপালে আছে তাই হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ঈদ করতে হইতাছে। প্রত্যেক ঈদে মেয়েরা আসে, নাতি-নাতনিরা বাড়িতে আসে, সবাইরে নিয়া আনন্দ করি। এবার আর তা হলো না।’
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৬ নম্বর সার্জারি ইউনিটের ৬ নম্বর বিছানায় শুয়ে এমনভাবেই কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন নেত্রকোনার মদনের ওয়াহেদ মিয়া (৭০)। প্রচণ্ড পেটে ব্যথা এবং আলসারের সমস্যা নিয়ে গত ৫ জুলাই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। সঙ্গে আছে স্ত্রী এবং ছেলে হায়াতুল্লাহ।
ওয়াহেদ মিয়ার ছেলে বলেন, ‘কোরবানির জন্য একটি ষাঁড় গরু পালতাছিলাম। ভাবছিলাম সবাইরে নিয়া আনন্দ করে কোরবানি ঈদ করবাম। বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তা আর হইলো না। এইবার হাসপাতালেই ঈদ করতে হইবো।’
পাশের বিছানার রোগী হুরমুজ আলী বলেন, ‘এবার ঈদে কোনও আনন্দ নাই। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুইয়া আছি। প্রতি ঈদে পরিবারের সববাই মিইল্যা আনন্দ করি, এইবার আর হইবো না। ঈদের মাঠে নামাজও পড়া হইবো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুনছি হাসপাতাল থাইক্যা ঈদ উপলক্ষে বিশেষ খাবার দিবো। বাড়ি দূরে, তাই ঈদের দিন খাবার নিয়ে কেউ আসতে পারবো না। হাসপাতাল থেকে খাবার দিলে ঈদের খাবার খাওয়ার সুযোগ হইবো।’
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম কিবরিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে রোগীদের জন্য তিন বেলা বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা আছে। সকালে খাবার হিসেবে থাকবে সেমাই, পাউরুটি, কলা ও ডিম। দুপুরে রোগীদের খাবার হিসেবে পোলাও, মুরগি এবং খাসির মাংস দেওয়া হবে। রাতে থাকবে সাদা ভাত. মুরগির মাংস এবং ডাল।









