জামালপুরে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. সুরুজ্জামানকে অব্যাহতি প্রদান করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। রবিবার (১৩ নভেম্বর) জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতিপত্র বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধ্যাপক মো. সুরুজ্জামান তার ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী পৌর মেয়র শেখ মো. নুর নবী অপুকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চাই, এই মর্মে ফেসবুকে
ট্যাটাস দেন। এতে গঠনতন্ত্রের ৪৭(৯) ধারা মোতাবেক তাকে অব্যাহতি প্রদান করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কেন তাকে বহিষ্কার করা হবে না, তা পত্র প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
আগামী ২৮ নভেম্বর জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনে নিজেকে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ঘোষণা করে শনিবার স্থানীয় দৈনিকগুলোর প্রথম পৃষ্ঠায় তার একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। এর এক দিন পর তাকে এই অব্যাহতিপত্র দেওয়া হলো।
এ বিষয়ে অধ্যাপক মো. সুরুজ্জামান বলেন, ‘জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত চিঠি আমি পেয়েছি। তাদের প্রতি পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে এই বিষয়ে আমার বক্তব্য খুবই সুস্পষ্ট। আমার ফেসবুক আইডি থেকে আজ পর্যন্ত দল ও দলের সম্মানিত নেতাদের হেয় করে কোনও স্ট্যাটাস দিইনি। আমার আইডি থেকে দেওয়া যে স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে আমাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সেটিতে আমি একটি শব্দ ও বাক্য দলের বিরুদ্ধে দিইনি। সেই স্ট্যাটাসে যা লিখেছি, তা দলের পক্ষেই লিখেছি। আমার মনে হয় কোথাও তারা আমার বক্তব্যকে ভুল বুঝেছেন। আমি আওয়ামী লীগের মাঠকর্মী। আমি দলের সঙ্গে ছিলাম, আছি।’
লিখিত জবাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লিখিত জবাব তারা চেয়েছেন। আমি তা অচিরেই দেবো। আমি মনে করি, ওই স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে আমাকে এই রকম একটি চিঠি তারা দিতে পারেন না। এটা আমার প্রতি সাংগঠনিক অবিচার। এ নিয়ে আমি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্বারস্থ হবো।’
আগামী ২৮ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন। এই পত্রের মাধ্যমে সেই পথকে রুদ্ধ করা হলো। এরপরও তিনি দলের সঙ্গেই থাকার কথা জানান।









