সম্মেলন ছাড়াই হঠাৎ করে ময়মনসিংহে ছাত্রলীগের ৯টি ইউনিটের কমিটি ঘোষণা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কমিটি ঘোষণার পর জেলাজুড়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ঘটেছে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। কমিটি দেওয়ার নামে বাণিজ্যের অভিযোগ করছেন পদবঞ্চিত নেতারা।
জানা গেছে, গত ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন অলি স্বাক্ষরিত ময়মনসিংহ সদর, ফুলবাড়িয়া, গৌরীপুর, ত্রিশাল, ত্রিশাল পৌর, ভালুকা, ঈশ্বরগঞ্জ, ঈশ্বরগঞ্জ পৌর, মুক্তাগাছাসহ ৯টি ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই জেলাজুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ক্যাম্পাসে দুই পক্ষ একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসুচি পালন করে পরস্পর বিরোধী স্লোগান দিয়েছে। এতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে। পরে বিকালের দিকে নগরীর টাউন হল প্রাঙ্গণে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এদিকে, কমিটি ঘোষণা করার পর থেকে জেলার মুক্তাগাছা ও গৌরীপুর উপজেলায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করছে নেতাকর্মীরা।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন গ্রুপের অনুসারী ও আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের আহ্বায়ক শেখ সজল বলেন, ‘দুই বছর পর আমাদের কমিটি দিয়েছে। তাই আমরা নেতাকর্মীরা একসঙ্গে স্লোগান দিচ্ছিলাম। তবে কেউ যদি হামলা করে পরিস্থিত উত্তপ্ত করতে চায়, সাধারণ ছাত্রদের রক্ষায় আমরা প্রস্তুত আছি।’
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির গ্রুপের নেতা ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহফুজুল আলম ফাহাদ বলেন, ‘আমরা মুখোমুখি অবস্থানে নেই। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন অলি অর্থের বিনিময়ে কমিটি দেওয়ায় তাদের অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটি হুমায়ুন কবিরের প্রত্যাহার আদেশ বাতিল করে আবারও সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্বহাল করেছে। আমরা তাকে আবারও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চাই।’
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুভ দে বলেন, ‘ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কোনও কমিটি দিতে পারে না। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন অলি ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন কমিটি নিয়ে বাণিজ্য করেছেন বলে।’
এদিকে গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করার পর থেকেই পদবঞ্চিতরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি স্বপদে বহাল হওয়ার পরও তাড়াহুড়া করে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন অলি ও সভাপতি আলামিন মিলে ৯টি ইউনিটের কমিটি দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিয়ম বহির্ভূত।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের পদ ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা আছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ থেকে নিশ্চিত হলে তার পদবি ফিরে পাবে।’
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিন বলেন, ‘আমরা অবৈধ কোনও কমিটি দিইনি। কারণ হুমায়ুন কবির ৬ তারিখে পদবি ফিরে পেয়েছে। আমরা ২ ডিসেম্বর থেকে ৫ তারিখ রাত ১২টার আগেই কমিটি ঘোষণা করেছি। অর্থ সুবিধা নিয়ে কমিটি দিয়েছি তা যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে যেকোনও শাস্তি মাথা পেতে নেবো।’
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘নগরীর টাউন হল এলাকায় দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন।’









