আগামী শনিবার (১১ মার্চ) ময়মনসিংহে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সার্কিট হাউজ ময়দানে আওয়ামী লীগের ময়মনসিংহ বিভাগীয় জনসভায় যোগ দিয়ে বক্তব্য দেবেন দলীয় সভাপতি। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভাসছে গোটা ময়মনসিংহ। প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে ব্যানার, পোস্টার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে সার্কিট হাউজ ময়দানের জনসভাস্থলসহ ময়মনসিংহ নগরীর প্রতিটি সড়ক ও পাড়া মহল্লা। দলের নেতাকর্মী ও সমর্থক ছাড়াও নানা শ্রেণিপেশার মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। জনসভাকে সফল করতে রাত দিন ব্যস্ত সময় পার করছেন দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ কর্মীরাও।
বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) ময়মনসিংহ নগরীর প্রবেশপথ শিকারিকান্দা থেকে নগরীর মাসকান্দা বাইপাস, চরপাড়া, মাসকান্দা, নতুনবাজার, গাঙ্গিনারপাড়, টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড, কাচিঝুলি, টাউনহল মোড়সহ নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জনসভাকে ঘিরে দলীয় প্রধানের দৃষ্টি কাড়তে লাখ লাখ টাকার তোরণ, ব্যানার আর প্যানাফ্লেক্স নির্মাণ করেছেন দলটির নেতাকর্মী ও আগামী সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
শনিবার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ ময়দানে আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে প্রায় ১৫ লাখ লোক সমাগমের টার্গেট নিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। বসে নেই দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও। দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দলটির শীর্ষ নেতাকে বরণ করে নিতে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ইতিমধ্যে পৃথক বর্ধিত সভা করেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নগরীর প্রতিটি সড়কে দিনরাত চলছে মাইকিং। রেকর্ড জনসমাগমের লক্ষ্য নিয়ে ‘ময়মনসিংহের মাটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি’ পুরোনো এই স্লোগান আবারও প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে চান নেতাকর্মীরা।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, ‘দেশের সার্বিক খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়নে দেশবাসীর কাছে আস্থা অর্জন করেছেন শেখ হাসিনা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহকে বিভাগসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে বদলে দিয়েছেন। আর এ কৃতজ্ঞতা থেকেই দলীয় সভাপতিকে স্বাগত জানাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আশা করছি, জনসভায় ১৫ লাখ লোকের সমাগম ঘটতে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার আগমনে এই অঞ্চলের সাংগঠনিক অবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙা হবে। যা আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। জনসভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে দিকনির্দেশনা দেবেন তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবো। যা আমাদের দলকে সুসংগঠিত করা এবং আগামী নির্বাচনে বিজয়ী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, নৌকার আদলে সমাবেশের মঞ্চ তৈরি হচ্ছে। মঞ্চের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সমাবেশের জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চলছে। এটিকে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসভায় রূপ দিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছি। এ ছাড়া নেত্রীর আগমনের খবরে উচ্ছ্বসিত গোটা ময়মনসিংহবাসী।’
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের এমপি ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমনে দলীয় নেতাকর্মীরা ভেদাভেদ ভুলে জনসভাবে সফল করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য নেতাকর্মীদের ব্যাপকভাবে চাঙা করবে এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহের সবকটি আসনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে দলীয় নেত্রীকে উপহার দেওয়া হবে।’
জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী কী কী উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তার তালিকা করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ফিরতি নির্দেশনা এখনও পাওয়া যায়নি।’
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশকে কেন্দ্র করে কয়েক স্তরের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাদা পোশাকের গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তায় প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি বাইরের জেলা থেকেও এখানে পুলিশ আসবে। প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশ মঞ্চের প্রথম সারিতে নিরাপত্তায় থাকবে এপিবিএন। ট্রাফিকের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। আশা করছি, সমাবেশকে ঘিরে ১০ লাখ লোকের সমাগম হবে। সাধারণ মানুষের যেন কোনও ভোগান্তি না হয় সেজন্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ ময়দানের নির্বাচনি জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন।









