অবৈধ করাতকল ও বন উজাড়, বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:১০আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:২৪

ময়মনসিংহের ভালুকার উথুরা রেঞ্জের অধীনে অবৈধ করাতকলের ছড়াছড়ি। এসব করাতকলে সরকারি বনের গাছ চুরি করে কেটে এনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে। আর এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে স্থানীয় বন কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

স্থানীয় লাকজন বলছেন, ভালুকার উথুরা রেঞ্জের অধীনে উথুরা, এনায়েতপুর ও আঙ্গর গড়া বিট রয়েছে। তিন বিটের দায়িত্বে রয়েছেন ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইল হোসেন। তার নেতৃত্বেই চলছে বনের গাছ কাটার কার্যক্রম।

ফুলবাড়িয়ার এনায়েতপুর বিট সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইল হোসেন ও তার সহযোগীদের যোগসাজশে বন সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ অনেক করাতকল গড়ে উঠেছে। সরকারি বনের গাছ চুরি করে কেটে এসব করাতকলে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইল হোসেন ও বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিলে ওই টাকা ভাগ করে নিচ্ছেন সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এমন সুবিধা পাওয়ায় বনের পাশে অবৈধ করাতকল গড়ে উঠলেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না ডেপুটি রেঞ্জার।’

একই এলাকার বাসিন্দা শামসুল আলম বলেন, ‘বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে স্থানীয় বনখেকোরা সরকারি জায়গা দখল করছে এবং বনের গাছ কেটে উজাড় করে দিচ্ছে। এখান থেকেও বন কর্মকর্তারা আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। এজন্য তারা সবসময় চুপচাপ থাকেন। বিশেষ করে কোনও ব্যবস্থা নেন না রেঞ্জার।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনায়েতপুর বিটের ফরেস্ট গার্ড লিটন মিয়া বলেন, ‘ডেপুটি রেঞ্জার স্যারের নির্দেশ মতে আমরা সব দায়িত্ব পালন করে থাকি। বন সংলগ্ন এলাকায় অনেক অবৈধ করাতকল আছে। এটি অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নেই। মাঝেমধ্যে সরকারি শালবনের গাছ চোরেরা কেটে নিয়ে যায়। সেগুলো করাতকলে বিক্রিও করা হয়। তবে অভিযান পরিচালনা করে গাছ উদ্ধার করাসহ মামলাও দেওয়া হচ্ছে।’

তবে সিন্ডিকেট গড়ে বন উজাড়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উথুরা রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার ইসমাইল হোসেন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উথুরা রেঞ্জের অধীনে তিনটি বিট এলাকায় ৫০ থেকে ৬০টি অবৈধ করাতকল আছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব করাতকল ব্যবসা করে আসছে। মাঝেমধ্যে আমরা অভিযান পরিচালনা করে থাকি। তবে সবসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট না পাওয়ার কারণে অভিযান চালাতে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। আর আমার সময়কালে বনের গাছ কেউ কেটে নিয়ে যাবে এটা সম্ভব না। বনের জায়গা দখল হয়েছে এরকম সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মো. নূরুল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উথুরা রেঞ্জের ডেপুটি ডেঞ্জার ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে এই জাতীয় অভিযোগ এখন পর্যন্ত অফিসে জমা পড়েনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এএম/ 
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী