জামালপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এক তরুণীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের সময় খাদ্যনালী কেটে যাওয়ায় জেরিন (২৫) নামে ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। এ অভিযোগ জানাতে হাসপাতালে গেলে স্বজনদের ওপর হামলা চালানো হয়। একই ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন কয়েকজন সাংবাদিকও।
বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে শহরের সরদারপাড়া এলাকার এম এ রশীদ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জেরিনের স্বামী দেলোয়ার হোসেন জানান, গত ৯ জুলাই পেটে সিস্টের ব্যথা নিয়ে তার স্ত্রী এম এ রশীদ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ডা. হারুন অর রশিদের তত্ত্বাবধানে অস্ত্রোপচার করা হয়।
তার অভিযোগ, অপারেশনের পর প্রথম দিন জেরিনের অবস্থা স্বাভাবিক থাকলেও পরদিন থেকেই তার পেট ফুলে যায় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার কথা বললেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সাত দিন সেখানে রেখে দেয়। পরে ১৬ জুলাই তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
দেলোয়ারের দাবি, ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচারের সময় জেরিনের খাদ্যনালী কেটে যাওয়ায় খাবার পেটে ছড়িয়ে মারাত্মক সংক্রমণ হয়েছে। সেখানে আরেক দফা অস্ত্রোপচার করা হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউনাইটেড হাসপাতাল এবং এম এ রশীদ হাসপাতাল একই মালিকানাধীন হওয়ায় তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জবাব চাইতে হাসপাতালে গেলে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী তাদের মারধর করেন।
এ সময় ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদেরও বাধা দেওয়া হয় এবং তাদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
হামলার শিকার একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক খন্দকার রাজু আহমেদ ফুয়াদ বলেন, রোগীর স্বজনদের বক্তব্য নেওয়ার সময় হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী তাদের ওপর চড়াও হন। পরে সাংবাদিকরা ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের সঙ্গেও অসদাচরণ করা হয় এবং হামলা চালানো হয়।
এ বিষয়ে এম এ রশীদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে কথা বলার আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানোর পরও তারা কোনও বক্তব্য দেননি।







