চিনামাটির নকশায় মুগ্ধতা ছড়ায় সৈয়দপুরের শতবর্ষী ‘চীনা মসজিদ’

মায়মুনা আক্তার লিনা
৩১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩০আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩০

নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার ইসলামবাগ এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক চীনা মসজিদ বা চিনি মসজিদ দেশের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় স্থাপনা। অনন্য স্থাপত্যশৈলী, দেয়ালজুড়ে চিনামাটির কারুকাজ এবং নান্দনিক সৌন্দর্যের কারণে প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে আসছে দেড় শতাব্দীর পুরোনো এই মসজিদ।

ধর্মীয় উপাসনালয়ের পাশাপাশি এটি এখন উত্তরাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের অপূর্ব সমন্বয় দেখতে প্রতিনিয়ত ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।

নির্মাণের ইতিহাস

চীনা মসজিদের ইতিহাস প্রায় দেড় শতাব্দীরও বেশি পুরোনো। স্থানীয় মুসলিম সমাজের উদ্যোগে ১৮৬৩ সালে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে এর সম্প্রসারণ, সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। তবে মসজিদটির নির্মাণ ও সংস্কারের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে কিছু তথ্যের পার্থক্য রয়েছে।

মসজিদটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর দেয়াল, গম্বুজ ও বাহ্যিক অংশে চিনামাটির থালা, কাপ, প্লেট, টাইলস এবং রঙিন কাচের টুকরো দিয়ে তৈরি দৃষ্টিনন্দন অলংকরণ। এই ব্যতিক্রমী সাজসজ্জার কারণেই এটি স্থানীয়ভাবে ‘চিনি মসজিদ’ বা ‘চীনা মসজিদ’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সৈয়দপুরের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী হাজী বখতিয়ার মাহমুদের উদ্যোগে মসজিদটির সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ আরও বিস্তৃত হয়। দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা চিনামাটির তৈজসপত্র ও বিভিন্ন অলংকারসামগ্রী ব্যবহার করে মসজিদের বাহ্যিক সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করা হয়।

স্থাপত্যের অনন্য বৈশিষ্ট্য

চীনা মসজিদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর সূক্ষ্ম কারুকাজ। মসজিদের দেয়ালজুড়ে চিনামাটির টুকরোর নকশা, রঙিন কাচের ব্যবহার এবং নান্দনিক অলংকরণ দর্শনার্থীদের সহজেই মুগ্ধ করে।

এ ছাড়া মার্বেল পাথরের মেঝে, সুউচ্চ মিনার, দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ এবং সূক্ষ্ম নকশা মসজিদটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রচলিত স্থাপত্যধারার বাইরে গিয়ে তৈরি হওয়া এই নকশা এটিকে দেশের অন্যান্য মসজিদ থেকে আলাদা করেছে।

পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র

বর্তমানে চীনা মসজিদ শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। বিশেষ করে ঈদ, জুমার দিন এবং সরকারি ছুটিতে এখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেড়ে যায়।

ঢাকা বা দেশের অন্যান্য স্থান থেকে ট্রেন, বাস কিংবা বিমানযোগে সৈয়দপুরে পৌঁছে সহজেই রিকশা বা অটোরিকশায় চীনা মসজিদে যাওয়া যায়। ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং স্থাপত্যের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে নীলফামারীর এই স্থাপনাটি হতে পারে একটি আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য।

/এমএএল/
সম্পর্কিত
গোলাপ বাগান থেকে ঐতিহ্যের স্মারক ঢাকার রোজ গার্ডেন
ঐতিহ্যবাহী তকমা পেয়েও যে স্থান পর্যটকশূন্য
শুধু খাবেন না, বিউটি বোর্ডিংয়ে গেলে যা জেনে আসবেন
সর্বশেষ খবর
 ‘লাকি ভাস্কর ২’ নিয়ে ফিরছেন দুলকার সালমান
 ‘লাকি ভাস্কর ২’ নিয়ে ফিরছেন দুলকার সালমান
সন্তানদের যে উপদেশ দেন মেসি, পেছনে লুকিয়ে নিজের বড় আফসোস
সন্তানদের যে উপদেশ দেন মেসি, পেছনে লুকিয়ে নিজের বড় আফসোস
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: শুরু থেকে যেভাবে নেবেন সেরা প্রস্তুতি
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: শুরু থেকে যেভাবে নেবেন সেরা প্রস্তুতি
নজরুলকে নিয়ে প্রচলিত ধারণায় বড় সংশোধন
নজরুলকে নিয়ে প্রচলিত ধারণায় বড় সংশোধন
সর্বাধিক পঠিত
বৈঠক করে যাওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এসএমএসে সুখবর দিলেন ট্রাম্পের দূত
বৈঠক করে যাওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এসএমএসে সুখবর দিলেন ট্রাম্পের দূত
আবারও অধিনায়ক সাকিব, প্রতিনিধিত্ব করবেন বাংলাদেশকে 
আবারও অধিনায়ক সাকিব, প্রতিনিধিত্ব করবেন বাংলাদেশকে 
এক ডিআইজিসহ পুলিশের ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত
এক ডিআইজিসহ পুলিশের ৩ কর্মকর্তা বরখাস্ত
ডেভিড ইমনের কাছে পাওয়া ভারতীয় আধার কার্ড আসলে কী, কোন কাজে লাগে
ডেভিড ইমনের কাছে পাওয়া ভারতীয় আধার কার্ড আসলে কী, কোন কাজে লাগে
ডেভিড ইমনের কাছে মিলেছে ভারতের আধার কার্ড
ডেভিড ইমনের কাছে মিলেছে ভারতের আধার কার্ড