পুলিশের এক সদস্য বছরখানেক ধরে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিভিন্নভাবে উত্যক্ত ও হয়রানি করে আসছিলেন ১৬ বছরের এক কিশোরীকে। প্রেমের প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ওই পুলিশ কনস্টেবলের প্রহারে আহত হয়ে হাসপাতালেও যেতে হয়েছে তাকে অতঃপর উভয়পক্ষের ‘সম্মতি’র ভিত্তিতে কিশোরী ‘বাল্যবিয়ে’ করেন ওই কনস্টেবল।
ঘটনাটি দিনাজপুর কোতোয়ালী থানার পাটুয়াপাড়া এলাকার। ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে ওই কনস্টেবলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছে অপ্রাপ্ত বয়সী কিশোরীকে। পুলিশ সদস্যের হাতে কিশোরীকে প্রহার ও বাল্যবিয়ের আয়োজন ‘টক অব টাউনে’ পরিণত হলেও প্রশাসন বলছে, তাদের কিছুই করার ছিল না। আর বাল্যবিয়ে রোধ করা যার দায়িত্ব, সেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না।
মেয়েটির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর শহরের পাটুয়াপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলামের কিশোরী মেয়ে(১৬)-কে প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন কোতোয়ালী থানার কনস্টেবল ও ওয়্যারলেস অপারেটর মোস্তফা কামাল। কিশোরীটি এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।
আরও পড়ুন: সংসদে উপস্থিত থেকেও ‘অনুপস্থিত’ কয়েকজন এমপি
সাংবাদিকদের কাছে কিশোরী অভিযোগ করেন, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরেও গত মঙ্গলবার বিকেলে সে বাড়ি থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বের হলে পথিমধ্যে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন কনস্টেবল মোস্তফা। এ সময় বাধা দিলে তাকে প্রহার করা হয়। প্রহারে তার মাথা ফেটে যায়। রক্তাক্ত ও গুরুতর অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান কনস্টেবল মোস্তফা। পরে এলাকার লোকজন তাকে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় ওই রাতেই দিনাজপুর কোতোয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন কিশোরীর পিতা জাহিদুল ইসলাম। মামলা দায়ের হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার রাতে আপোসের মাধ্যমে অপ্রাপ্ত বয়সী ওই কিশোরীর সঙ্গে কনস্টেবল মোস্তফার বিয়ে সম্পন্ন হয়।
আরও পড়ুন: সাজা প্রত্যাহারে ইসিতে এসপি হারুনের তদবির
কিশোরীর পিতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, মারধরের আগেও ওই কনস্টেবল তার মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন। বুধবার তার পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব পান তিনি। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এ বিয়েতে তিনি রাজী হয়েছেন।
এ ব্যাপারে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম খালেকুজ্জামান জানান, কিভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে তা তিনি জানেন না। আহত হওয়ার পর তিনিও হাসপাতালে গিয়ে মেয়েটির বক্তব্য শুনেছেন। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ওই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। উভয়ের পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়েছে।
আরও পড়ুন: শুধু বেতন নয়, ভাতার ওপরও কর দিতে হবে
এ ব্যাপারে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আগে জানতে পারলে এটা হতে দিতাম না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও সদস্য এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাল্যবিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
/এপিএইচ/
/আপ-এএ/







