কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে চারটি ট্রলার ডুবে গেছে। এ ঘটনায় প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। রবিবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে পুরাণবাজার ভুঁইয়ারঘাট এলাকায় নদীতে চারটি ট্রলার ডুবে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। সোমবার বিকাল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনও ট্রলারই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ডুবে যাওয়া ট্রলারগুলো হলো ফরিদপুরের মঞ্জু মাঝির এমভি ভাটিলক্ষ্মীপুর, নুরুজ্জামান মাঝির আল মিরাজ, কুদ্দুস মাঝির সিলেটি ট্রলার ও চাঁদপুরের আনিস-স্বপন পরিবহন।
দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারগুলো রবিবার ফরিদপুরের সিএমবি ঘাট থেকে প্রায় সাত হাজার বস্তা চাল, তিন হাজার বস্তা ডালসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে বিকালে চাঁদপুরের পুরানবাজার ভুঁইয়ারঘাট এলাকায় অবস্থান নেয়। সন্ধ্যায় কালবৈশাখী শুরু হওয়ায় ট্রলারগুলো থেকে মালামাল নামানো সম্ভব হয়নি। পরে ঝড়ে চারটি ট্রলারই তলিয়ে যায়।
বিআইডব্লিউটি’র উপ পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে প্রচন্ড বাতাসের তোড়ে ট্রলারগুলো ডুবে যায়। এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ধরনের মালামাল নষ্ট হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কালবৈশাখী ঝড়ে একজন নিহত : বিদ্যুতের লাইনে ব্যাপক ক্ষতি
নদীতে তলিয়ে যাওয়া এমভি ভাটিলক্ষীপুরের মাঝি মঞ্জু মাঝি জানান, তারা দুই হাজার চার’শ বস্তা মশুরির ডাল ও চাল নিয়ে ভুঁইয়ারঘাট এলাকায় আসেন। সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়ে একসঙ্গে ভুঁইয়ারঘাট ও মৌলভীঘাটে থাকা মালামাল বোঝাই চারটি ট্রলার ডুবে যায়। তারা পুরানাবাজার এলাকার সুভাষ চন্দ্র রায়, খাদ্য ভান্ডার, মিনারা ট্রেডার্স, শুকতারা, সবুজ পোদ্দার, রায় ট্রেডার্সসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের মালামাল ফরিদপুরের সিএমবি ঘাট থেকে স্টিলবডি ট্রলারে চাঁদপুরে নিয়ে আসেন।
ব্যবসায়ী সবুজ পোদ্দার জানান, তাদের প্রায় দুই হাজার চার’শ বস্তা চাল ও ডাল নিয়ে এমভি ভাটি লক্ষ্মীপুর ও সিলেটি ট্রলার চাঁদপুরের পুরানবাজার ভুঁইয়ারঘাট এলাকায় আসে। বিকাল হওয়ায় পরের দিন মালামাল নামাবে বলে শ্রমিকরা চলে যায়। কিন্তু সন্ধ্যায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে ট্রলারগুলো ঢুবে যায়। এতে করে আমাদের ব্যবসায়ীদের প্রায় দুই কোটি টাকার উপর ক্ষতি হয়েছে। সোমবার ভোরে মালামাল ও ট্রলার উদ্ধারের জন্য শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে।
চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সুবার চন্দ্র রায় জানান, ট্রলারডুবির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল নষ্ট হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
/বিটি/আপ-এআর/







