পাবনায় চলছে পল্লী বিদ্যুতের লুকোচুরি। সীমাহীন লোডশেডিং এর কারণে ইরি-বোরো আবাদ প্রকল্পে মারাত্মক সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে মানুষের জীবনও দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের অভাবে গভীর-অগভীর নলকূপগুলো বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকছে। ফলে ক্ষেতে পর্যাপ্ত সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, লো-ভোল্টেজের কারণে গত এক সপ্তাহে ৫৫টি বৈদ্যতিক নলকূপের বৈদ্যুতিক মটর পুড়ে গেছে। প্রচণ্ড খরায় ফসলের মাঠ শুকিয়ে যাওয়ায় ফেটে চৌচির হচ্ছে ফসলের ক্ষেত। ফলে এবার জেলার চাটমোহর, সুজানগর, ভাঙ্গুড়া, আতাইকুলা, আমিনপুর ও ফরিদপুর থানা এলাকায় ইরি-বোরো আবাদ ব্যাহত হবার আশংকা করছেন কৃষকরা।
পাবনার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামের কৃষক আক্কাছ আলী জানান, বিদ্যুতের অভাবে সেচ দিতে না পারায় তার ৪ বিঘা জমির ধানক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। খানমরিচ, অষ্টমণিষা ও দিলপাশার ইউনিয়নের বোরো প্রকল্পের অবস্থা আরও করুণ বলে স্থানীয় কৃষকরা জানান। বিদ্যুতের ন্যূনতম সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় আবাসিক গ্রাহকরাও চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। গ্রাহকরা জানান, দিন-রাত প্রায় ১৬/১৭ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করে কম বিদ্যুৎ সঞ্চালন করছে। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগেরও কোনও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয় কৃষকেরা অভিযোগ করেন।
আর পড়ুন: বৃহস্পতিবার জামায়াতের ২৪ ঘণ্টার হরতাল
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সভাপতি গোলাম কবির জানান, চাহিদা রয়েছে ৪০ মেগাওয়াট, কিন্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ মেগাওয়াট। ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ এর জেনারেল ম্যানেজার শাহ্ জুলফিকার হায়দার বলেন, জাতীয় গ্রিড লাইন থেকে সরবরাহ আশংকাজনক ভাবে কমে যাওয়ায় সাময়িক সংকটে পড়তে হয়েছে । তবে দ্রুত এ অবস্থার উন্নতি হবে বলে তিনি আশা করেন।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বিভুতি ভূষণ সরকার জানান, বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজের কারণে ইরি-বোরো আবাদ ব্যাহত হচ্ছে, কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীরা বিষয়টি মনিটরিং করছে, পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে, তারা জানিয়েছেন, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।
/টিএন/








