জয়পুরহাটের সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের নামাজে জানাযা সোমবার স্থানীয় গোপালপুর বাজার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল দশটায় ওই নামাজে জানাযায় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে কোঁচকুড়ি গ্রামে তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

জানাযায় অংশ নিয়ে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক আব্দুর রহিম উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করে বলেন, চেয়ারম্যান আজাদকে যারা হত্যা করেছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় নেওয়া হবে। আর পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম নিজেকে আজাদের ভাই হিসেবে দাবি করে এলাকাবাসীর কাছে অঙ্গীকার করে বলেন, আজাদের হত্যাকারীরা যত বড়ই হোক না কেন, তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ভাদসা ইউনিয়নকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন চেয়ারম্যান আজাদ। তাঁর সেই ঘোষণা এলাকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। আজাদ হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন এদের দু’জন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছে। খুব শীঘ্রই হত্যাকারী চক্রের মুলোৎপাটন করা হবে।
জানাজায় নিহত আজাদ চেয়ারম্যানের বড় ভাই স্থানীয় ছাওয়ালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হাই মুকুল নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আজাদের কোনও বক্তব্যে ভুল ভ্রান্তি হলে উপস্থিত ইউনিয়নবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এ সময় জানাজায় উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। ভোটের আগে তাঁর ভাই আজাদের দেওয়া ওয়াদার কথা স্মরণ করে দিয়ে উপস্থিত ইউনিয়নবাসীকে তিনি বলেন, আজাদ ভোটের সময় ওয়াদা করেছিলেন প্রয়োজন হলে বুকের রক্ত দিয়ে হলেও ভাদসা ইউনিয়নকে সন্ত্রাস মুক্ত করবো। জনগণ তাঁকে নির্বাচিত করলেও দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার আগেই আজাদ রক্ত দিয়ে ইউনিয়নবাসীর সেই ঋণ শোধ করে গেলেন। তিনি এ সময় অন্য তিন ভাইসহ ইউনিয়নবাসীর সুখে দুঃখে পাশে থাকারও অঙ্গীকার করেন।
গত ৩১ মার্চ দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে আবুল কালাম আজাদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। গত ৪ জুন দূর্গাদহ বাজার থেকে নিজবাড়ি কোঁচকুঁড়ি গ্রামে মটর সাইকেল যোগে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করার পর কুপিয়ে জখম করে। এ সময় পথচারি নয়ন চন্দ্রও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। চেয়ারম্যান আজাদ ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রবিবার ভোরে মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই এনামুল হক বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ এ পর্যন্ত এজাহার নামীয় তিন আসামিকে গ্রেফতার করেন।
/টিএন/
আরও পড়ুন:
মা-মেয়েকে গণধর্ষণের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে বহিষ্কার








