নানা সমস্যার মধ্য দিয়েও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে মাগুরার একমাত্র অটিস্টিক স্কুল সুইড (সোসাইটি ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অব ইনটেলেকচুয়ালি ডিসঅ্যাবেলড) – বাংলাদেশ। গত ৪ বছর এ স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারীদের কোনও বেতন দেওয়া সম্ভব না হলেও তাদের আন্তরিকতায় বেড়ে উঠছে অটিস্টিক শিশুরা।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া মাগুরার একমাত্র এই অটিস্টিক স্কুলটিতে এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের বাবা-মার মধ্যে আশার সঞ্চার করলেও আর্থিক সমস্যার কারণে তাদের চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে পারছে না।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই স্কুলে বর্তমানে ৪৯ জন অটিস্টিক ছাত্র রয়েছে। ৪ জন শিক্ষকসহ মোট ৮ জন কর্মী বর্তমানে এই স্কুলে শ্রম দিলেও তাদেরকে কোনও বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবুও শিক্ষক ও কর্মচারীরা পরম মমতায় আগলে রেখেছেন এসব শিশুকে।
স্কুলের একজন অভিবাবক নুরুল বাসার বলেন, গত ৩ বছর ধরে আমার ছেলে এখানে পড়াশুনা করছে। ইতোমধ্যে তার মধ্যে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করছি। এখানকার শিক্ষক কর্মচারীরা আমার ছেলেকে নিজের সন্তানের মতই যত্ন করেন।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ডলিফা ইয়াসমীন জানান, আমরা চার বছর ধরে স্কুলটি চালাচ্ছি অথচ সরকারি বা বেসরকারি কোনও প্রতিষ্ঠান আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। দেশের ৬০টি অটিস্টিক স্কুলে সুইড সহায়তা করলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা কোনও সহায়তা পাই না।
তিনি আরও বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে মাসিক দুইশ’ টাকা বেতন নেওয়া হয়। অনেকেই দারিদ্র্যের কারণে বেতনও দিতে পারে না। সর্বসাকুল্যে মাসে ৫-৬ হাজার টাকা আয় হয় যা দিয়ে স্কুলের অন্যান্য খরচ বহন করা হয়। শিশুদেরকে সবাই ভালোবাসি তাই স্কুলের কর্মকাণ্ডে আমরা কোনও অবহেলা করি না।
সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক মুহামিনুল হক জানান, স্কুলটি সমাজসেবা অধিদফতরের নিবন্ধনভুক্ত নয়। এটি সুইড স্কুলের অধিভুক্ত তাই আমাদের পক্ষে কোনও ধরনের সহযোগিতা করা সম্ভব নয়।
/এআর/টিএন/আপ-এমও/








