বাড়িতে পাঠানো গরুর মাংস কুকুর নিয়ে যাওয়ায় এর জের ধরে নৃশংসভাবে শিশু ফাহিমকে (৮) হত্যা করা হয়। সাতক্ষীরার সদর উপজেলার কুশখালী গ্রামে মঙ্গলবার ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল হক শেখ চারজনকে গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালী গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কুশখালী গ্রামের মুজিবর রহমান,তার স্ত্রী ছফুরা খাতুন, ছেলে ইব্রাহিম হোসেন ও ইসরাফিল হোসেন। এছাড়া ইসরাফিল হোসেনের স্ত্রী তামান্না খাতুনকে আটক করা হলেও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানান, স্থানীয় বাজারে মুজিবর রহমানের সাইকেল মেরামতের একটি দোকান রয়েছে। গত ১৪ জুন সকালে এক কেজি গরুর মাংস কেনেন মুজিবর রহমান। এ সময় শিশু ফাহিমকে দিয়ে ওই মাংস বাড়ি পাঠান তিনি। ফাহিম মুজিবর রহমানের বাড়ি গিয়ে দেখে তাদের বাড়িতে কেউ নেই। এ সময় বাড়ির সামনে থাকা ভ্যানের ওপর মাংস রেখে সে চলে আসে। পরে মুজিবর রহমানের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি এসে দেখে মাংসের প্যাকেট নিয়ে কুকুর টানাটানি করছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মুজিবর রহমান ফাহিমকে ডেকে পাঠায় এবং জিজ্ঞাসা করে মাংসের প্যাকেট কোথায় রেখেছিল। ফাহিমের দেওয়া উত্তরে মুজিবর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বেদম মারধর করে। এতে ফাহিমের শরীরের বিভিন্ন অংশ ফেটে রক্ত বের হতে থাকলে রক্ত বন্ধ হওয়ার জন্য মুজিবর ও তার পরিবারের সদস্যরা ফেবিকল আঠা দেয়। কিন্তু তাতে রক্ত বন্ধ না হয়ে উল্টো ফাহিমের শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে চাকা চাকা হয়ে উঠে। তখন কোনও উপায় না দেখে তারা ফাহিমকে একটি বাক্সে বন্দি করে রাখে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর রাতে কোনও এক সময় ফাহিমকে পার্শ্ববর্তী পাটক্ষেতে ফেলে দেয় তারা।
প্রসঙ্গত, দু’দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ১৫ জুন সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুশখালি সীমান্ত সংলগ্ন একটি পাট ক্ষেত থেকে শিশু ফাহিমের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ফাহিম সদর উপজেলার মৃগিডাঙ্গা গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মনিরুল ইসলামের ছেলে। মায়ের সঙ্গে সে কুশখালি গ্রামে নানা হাজি মোহাম্মদ আলির বাড়িতে থাকতো।
ওসি জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
/জেবি/এইচকে/
আরও পড়ুন: উত্তরায় খাল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার








