বেনাপোল দিয়ে আমদানিকৃত দু’টি পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে পণ্য নিয়ে বিজিবি ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যেও শুরু হয়েছে দ্বন্দ্ব।
জানা যায়, রবিবার দুপুরে ডব্লিউ ২৫-ই, ৪৩১৭ ও ডব্লিউ ২৫-ই, ৮৪০৬ নম্বরের দু’টি পিকআপ ভ্যান ভারতের পেট্রাপোল বন্দর থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। যার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরার সাজিত এন্টারপ্রাইজ ও আশিক এন্টারপ্রাইজ। গাড়ি ২টি চেকপোস্ট দিয়ে নোম্যান্সল্যান্ড পার হওয়ার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও কাস্টমস সদস্যরা ওগুলোকে ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে গাড়ি দু’টি দ্রুত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চলে আসে। পরে বিএসএফ ও কাস্টমস সদস্যরা পিকআপ ভ্যান দু’টি ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় বাংলাদেশ কাস্টমস ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা বাধা দিলে তারা ফিরে যায়।
এদিকে, বিএসএফ ও ভারতীয় কাস্টমস সদস্যরা ফিরে গেলেও বিজিবি ও বাংলাদেশ কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। বিজিবির ভাষ্য, গাড়ি দু’টিতে অবৈধ পণ্য থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাই তল্লাশি না করে ছাড়া হবে না। কাস্টমস বলছে, আমদানি পণ্যের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব কাস্টমসের। তাই কোনও কিছু করতে হলে তা কাস্টমস কর্মকর্তারাই করবেন। শেষ পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা গাড়ি দু’টি আটক করে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।
এদিকে, এখনও ঘটনার পর থেকে ওই পণ্যের কোনও বৈধ মালিক পাওয়া যায়নি। তাই সন্দেহ আরও জোরদার হয়েছে। অন্যদিকে বিএসএফ সদস্যরা বার বার বিজিবির কাছ থেকে গাড়ি নিতে আসছে। তবে ওই গাড়িতে যে ঠিক কি আছে তা তল্লাশি ছাড়া বলা সম্ভব হচ্ছে না।
বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জমির উদ্দিন বলেন, আমরা কেউ নিয়মের বাইরে না। ওই গাড়িতে যদি অবৈধ কোনও কিছু থাকে আইন অনুযায়ী তা দেখবে কাস্টমস। এসময় বিজিবিসহ বিভিন্ন সংস্থা উপস্থিত থাকতে কোনও বাধা নেই। কিন্তু বিজিবি আমদানি পণ্যের গাড়ি আটকে রেখে অনিয়ম করছে।
পাল্টা অভিযোগ করে ২৬ ব্যাটালিয়নের বেনাপোল সদর বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, যেহেতু গাড়ি দু’টি ভারতের কাস্টমসে এন্ট্রি করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়েছে। তাই বিএসএফকে গাড়ি দেওয়া হয়নি। সিও স্যারের নির্দেশে পিকআপ ভ্যান দু’টি আমাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গাড়িতে থাকা কাগজপত্রের সঙ্গে পণ্যের মিল থাকলে স্যার ছেড়ে দিতে বলেছেন। কিন্তু কাস্টমস কর্মকর্তারা বিজিবির সমন্বয়ে তল্লাশি করতে রাজি হচ্ছে না।
/জেবি/এইচকে/







