নাটোরের নলডাঙ্গা থানার ওসি সুবীর দত্ত এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমারকে হত্যার হুমকি দিয়ে বেনামি চিঠি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডাকযোগে চিঠি প্রাপ্তির পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তার নিরাপত্তা চেয়ে নলডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনও এ সংক্রান্ত চিঠি পেলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওসি কোন চিঠি পাননি।
আসছে কোরবানি ঈদের আগেই তাদের হত্যা করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে।
নলডাঙ্গা উপজেলায় কোনও হিন্দু অফিসার দেখতে চাই না মন্তব্য করে পৃথক চিঠিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনে বদলি করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আকতার জাহান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে তার কার্যালয়ে ডাকযোগে একটি চিঠি আসে। হলুদ খামে পাঠানো এক পৃষ্ঠার চিঠিটি সাদা কাগজে হাতে লেখা।
চিঠিতে তাকে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, কোরবানির ঈদের আগেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমারকে সরিয়ে দিতে হবে। নইলে পরিমলকে ঈদের আগেই হত্যা করা হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পরেই ওসি সুবীর দত্তকে হত্যা করা হবে। নলডাঙ্গা উপজেলায় কোনও ‘মালাউনকে’ চাকরি করতে দেওয়া হবে না।
পত্র প্রেরকের বাহিনী তাদের পদক্ষেপ ‘ফলো’ করছে উল্লেখ করে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দুইজনকে অন্যত্র বদলির নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
চিঠির নিচে প্রেরকের কোন পরিচয় উল্লেখ করা না থাকলেও হাসুয়া বা কাস্তে জাতীয় প্রতীক কলম দিয়ে অঙ্কন করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী কর্মকর্তা।
শিক্ষা কর্মকর্তা পরিমল কুমার দাবী করেন, বৃহস্পতিবার সকালে অফিসে বসার পরই তিনি একটি খাম দেখতে পান। খামের মধ্যে তাকে হত্যার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে চিঠিটি কোন পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে নয় বরং দরজার নিচের ফাঁকা অংশ দিয়ে ফেলে দেয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তিনি।
তিনি জানান, কারও সঙ্গে তার কোনও বিরোধ নেই। তিনি সবার সঙ্গেই সুসম্পর্ক রেখে নিজ দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। হত্যার হুমকি দেওয়ার কোনও কারণ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না। চিঠির কপি হাতে পাওয়ার পর তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নলাডাঙ্গা থানার ওসি সুবীর দত্ত বলেন, ইউএনও এবং শিক্ষা কর্মকর্তা চিঠি পেলেও তিনি এখনও পর্যন্ত কোন চিঠি পাননি। দুইটি চিঠিতেই তার সম্পর্কে হুমকি উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। চিঠির প্রেরককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
/এইচকে/








