বগুড়া শহর থেকে ঢাকা যাওয়ার নামে মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে চালক সোহেল রানাকে (৩০) হত্যার দায়ে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাস করে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। বুধবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে প্রথম তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান এ সাজা দেন। তবে সাজাপ্রাপ্তরা এখনও পলাতক রয়েছেন। গ্রেফতারের পর তাদের সাজা কার্যকর করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন- বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার সোলারতাইড় গ্রামের খায়রুজ্জামান খোকার ছেলে আবু জিন্নাত জুয়েল।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- সারিয়াকান্দির কুতুবপুর পশ্চিমপাড়ার আবদুস সাত্তার মুন্সীর ছেলে মো. সোহেল, কুতুবপুর বাজারের মৃত আবদুস সামাদ সরকারের ছেলে সামসুল আলম পিন্টু, কুতুবপুর নতুনপাড়ার মুসলিম উদ্দিনের ছেলে তোজাম উদ্দিন, চালুয়াবাড়ি গ্রামের সানোয়ার হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান রানা এবং কালিতলার আবদুল গফুরের ছেলে মানিক ওরফে মালেক।
সরকার পক্ষের কৌশুলী এপিপি রেজাউল হক জানান, বগুড়া শহরতলির ডাকুরচক গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে সোহেল রানা মাইক্রোবাস চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২০০৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে যাত্রীবেশী ৬ ঘাতক ঢাকা যাওয়ার কথা বলে মাইক্রোবাসটি (ঢাকা-মেট্রো-চ-১৪-১৫৪২) শহরের কালিতলা থেকে ভাড়া করে। পরে তারা তাকে সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি মধ্যপাড়ায় একটি বাঁশঝাঁড়ে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।
পরদিন সকালে পুলিশ চন্দনবাইশা-কড়িতলা সড়কে ফেলে রাখা মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বিপ্লব সরকার সারিয়াকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা চন্দনবাইশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মজিবর রহমান আসামি আবু জিন্নাত জুয়েল, মো. সোহেল ও সামসুল আলম পিন্টুকে গ্রেফতার করেন। এদের মধ্যে সোহেল ও পিন্টু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেন। পরবর্তীতে এরা তিনজনই জামিন নিয়ে আত্মগোপন করেন। অন্য তিন আসামি শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। মামলাটি ডিবি পুলিশে হস্তান্তর করা হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আবদুল মান্নান ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর আদালতে ৬ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
এপিপি রেজাউল হক জানান, আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছে। গ্রেফতারের পর তাদের সাজা কার্যকর হবে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবু জিন্নাত জুয়েলকে আগামি ৭ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে বলা হয়েছে।
আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট পদ্ম কুমার দেব এবং স্টেট ডিফেন্স অ্যাডভোকেট শান্তা দেব মামলা পরিচালনা করেন।
আরও পড়ুন: জঙ্গি সন্দেহে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ৩ ছাত্রী আটক
/এআর/








