ভারতে ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেওয়ায় কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার ৩৭টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। পাশাপাশি তলিয়ে গেছে ১৮শ’ হেক্টর জমির আউশ ধান ও পাটসহ অন্যান্য ফসল।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নৈমূল হক জানান, কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে পানির বিপদসীমা হচ্ছে ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। সেখানে শনিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত পানি প্রবাহিত হচ্ছে ১৪ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার। পানির মাপ পর্যবেক্ষণ করার জন্য কুষ্টিয়ায় একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রতি ৩ ঘণ্টা পরপর পানির মাপ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড সতর্ক রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রধান শাখা গড়াই নদীতেও পানি বেড়ে গেছে। ফলে গড়াই নদীর তীরবর্তী হাটশ হরিপুর গ্রামে বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পদ্মার পানিতে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা চিলমারি ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৩৫টি ও ভেড়ামারা উপজেলার ২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শান্তিমনি চাকমা জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে ভেড়ামারার সবচেয়ে পুরনো আশ্রয়ন প্রকল্প-১ এর বসতবাড়ি সরিয়ে নিতে এবং জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা জানান, পানিবন্দি অবস্থায় আয়-রোজগার না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন অর্ধাহারে। এছাড়া বিশুদ্ধ খাবার পানিরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত কোনও ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি।
স্থানীয় রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন জানান, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরাঞ্চলের ১২ গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। এখানকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। এলাকায় তীব্র খাবার পানি সংকট দেখা দিয়েছে।
চিলমারী ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ জানান, গত কয়েক দিন ধরে অব্যাহতভাবে পদ্মা নদীর পানি বাড়ায় চিলমারীর ১৮ গ্রামের ৪০ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে এসব মানুষ।
ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান জানান, ইউনিয়নের চারটি গ্রাম চারটি তলিয়ে গেছে। এছাড়া গোলাপনগর এলাকার ৭৫ ভাগ প্লাবিত হয়েছে।
/এমও/








