বগুড়ায় ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত দ্বিতীয় শ্রেণীর স্কুল ছাত্র শাহরিয়ার নাফিজ সিয়ামকে (৮) গলা কেটে হত্যা করার দায়ে আল-আমিন সোহাগ (২০) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে বগুড়ার শিশু আদালতের বিচারক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হাফিজুর রহমান এ রায় দেন।
এ রায়ের বিরুদ্ধে আগামী ৭ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে হবে। এছাড়া মুক্তিপণ দাবি করায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাস কারাদণ্ড, অপহরণ করায় ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং লাশ গুম করায় ৩ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এজাহার সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ১৭ মে সন্ধ্যার দিকে তার একমাত্র ছেলে ও ওয়াপদা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র সিয়াম বাড়ির সামনে খেলছিল। এ সময় তাকে অপহরণ করা হয়। পরে মোবাইল ফোনে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বেলাল হোসেন সদর থানায় অপহরণ মামলা করেন।
১৯ মে বিকালে প্রতিবেশি আনোয়ার হোসেনের ছেলে আল-আমিন সোহাগের বাড়ির সামনে শিশু সিয়ামের স্যান্ডেল পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যমতে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে পুকুরে শিশু সিয়ামের বস্তাবন্দি পচন ধরা গলা কাটা লাশ পাওয়া যায়।
পরে সোহাগ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার তৎকালীন এসআই আনোয়ার হোসেন ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে সোহাগের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে বুধবার এ রায় দেন।
সরকার পক্ষে শিশু আদালতের অতিরিক্ত পিপি খায়রুল বাশার নিলুজ ও আসামী পক্ষে অ্যাডভোকেট উৎপল কুমার বাগচি মামলা পরিচালনা করেন।
/এইচকে/
পড়ুন: একই স্থানে একই সময়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সমাবেশ








