নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ডাকাতি মামলায় রিমান্ডে নেওয়া আসামিকে নির্যাতনের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার দুই স্ত্রীকে (দুই সতীন) ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আতাউর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ এনে প্রত্যাহার করা হলেও তার বিরুদ্ধে শুরুতে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন দুই সতীন। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের চাপের কারণে আতাউর রহমানের নাম বাদ দিয়ে ইতোমধ্যে গ্রেফতার দুইজন সোর্সের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।
এদিকে, শনিবার সকালে এ দুই সতীনের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ডাকাতি মামলায় মিজমিজি দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে একজনকে গ্রেফতার করে ৩১ আগস্ট রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ওই রাতেই রিমান্ডে নির্যাতন করা হবে না শর্তে ২৫ হাজার টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই সতীনকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে এসআই আতাউর ও তার দুইজন সোর্স নজরুল এবং শুভের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে গঠন করা হয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। শুক্রবার আটক করা হয় দুইজন সোর্স নজরুল ও শুভকে।
তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফারুক হোসেন জানান, তদন্তে পুলিশের এসআই আতাউর রহমানের কোনও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির মূল হোতা ছিল সোর্স নজরুল। তবে দায়িত্বে অবহেলার কারণে শনিবার সকালে এসআই আতাউর রহমানকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি সরাফত উল্লাহ জানান, শুক্রবার রাতেই ধর্ষিত দুই সতীনের একজন বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় গ্রেফতার পুলিশের দুই সোর্স নজরুল ও শুভকে আসামি করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল সার্জন (আরএমও) ডা. আসাদুজ্জামান জানান, শনিবার সকালে ধর্ষিত দুই সতীনের মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। রিপোর্ট আসার পরে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে তাদের কারা ধর্ষণ করেছেন, সেটা জানতে হলে ডিএনএ টেস্ট করাতে হবে।
এদিকে, ঘটনার শুরুতে দুই সতীন ও তাদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান ধর্ষণের ঘটনায় এসআই আতাউরের সম্পৃক্ততার জোরালো অভিযোগ তুললেও শুক্রবার দুপুরের পর এ অভিযোগ থেকে কিছুটা সরে আরা হয়।
অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার আমার চেম্বারে বসে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুইজন নারীকে চাপ দিয়ে এক লাখ টাকায় রফাদফা করে। রোববার ওই এক লাখ টাকা দিয়ে দেবে জানিয়েছে পুলিশ। পরে দুইজনকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় নিয়ে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সমঝোতায় সই করানো হয়। মূলত পরিবারটি খুবই অসহায়। আমরা তাদের আইনি সহায়তা প্রদানের কথা বলেছিলাম। কিন্তু পুলিশের চাপে হয়ত তারা ভীত। কারণ, শুক্রবার দুপুরেও ওই সভার আগে এসআই আতাউরের নাম বলেছেন দুইজন যা সবার কাছেই রেকর্ড আছে।’
এর আগে শুক্রবার সকালে দুই সতীনের একজন জানান, এসআই আতাউর রহমানসহ কয়েকজন ফোন করে থানায় যেতে বলেছে। এসআই আতাউরের নাম বলায় তাদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে।
/এবি/







