‘গ্রামের নও জোয়ান হিন্দু মুসলমান মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম/ আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম আমরা...।’ এমন সব গান আর দোতারার সুরে মানুষকে সহজেই মুগ্ধতায় তলিয়ে নিয়ে যায় বাপ্পী বিশ্বাস।
জন্ম থেকে বাপ্পী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জামালপুর গ্রামে। সংসারে আছে দুই ছেলে-মেয়ে। তারা দুজনই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে।
অভাবের সংসার চালাতে স্বামী-স্ত্রী দুজনই বেছে নিয়েছেন প্রিয় দোতারা আর প্রেমজুড়ি। এসব বাজিয়ে আর গান গেয়ে যা পান, তা দিয়েই চলে চারজনের সংসার।
প্রতিদিন এলাকার বিভিন্ন পথে, চায়ের দোকানে, হাটবাজারে বা কোনো গাছের তলায় দাঁড়িয়ে বাপ্পী বিশ্বাস পথচারীদের গান শোনান। দর্শকদের খুশি করে যে অর্থ পান, তা দিয়েই চলে সংসার।
বাপ্পীর স্ত্রী সাথী খাতুন বলেন, ‘ভিক্ষা নয়, মানুষকে একটু আনন্দ দিয়ে টাকা উপার্জন করছি। এ দিয়েই আমরা সংসার চালাচ্ছি। এতেই আমাদের আনন্দ।’
দোতারা বাজানো শেখার বিষয়ে বাপ্পী বিশ্বাস বলেন, ‘এটা শুনে শুনেই মনের ভেতর একটা তাল চলে আসত। সেই থেকে বাজানোর চেষ্টা শুরু করি। আস্তে আস্তে সুর তোলা শিখেছি। অনেকে গান পছন্দ করেন। গান শেষে অনেকে দু-পাঁচ টাকা করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তা দিয়েই কোনও রকমে আমাদের দিন চলে যায়।’
/এসএ/







