যশোরের ভবদহের জলাবদ্ধ এলাকার মানুষ ত্রাণ বর্জন করেছেন। ত্রাণের পরির্বতে বাড়িঘর থেকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবি করেছেন তারা।
বুধবার সকালে অভয়নগর উপজেলার ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে গঠিত ত্রাণ কমিটির দেওয়া সহায়তা বর্জন করে অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের জলাবদ্ধ লোকজন।
উপজেলা ত্রাণ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সার ব্যাবসাযী নেতা শাহ জালাল হোসেন জানান, ‘ছয়শ প্যাকেট শুকনো খাবার নিয়ে সেখানে যাওয়া হয়েছিল। সংসদ সদস্য রণজিত কুমার রায় উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণের কথা আগেই প্রচার হয়ে যায়। কিন্তু লোকজন ত্রাণের প্যাকেট দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তাদের দাবি, তারা ত্রাণ চান না, পানি সরানোর ব্যবস্থা চান। স্থানীয়দের উত্তেজিত হওয়ার খবর পেয়ে এমপি বাবু সেখানে যাননি।’
সুন্দলী গ্রামের গৃহবধূ রিনা রানী রায় (৩৫) জানান, ‘জলে ডুবে গেছে বাড়ি। রাস্তার ওপরে পশু-পাখির সঙ্গে বাস করছি। ত্রাণ নিয়ে কী করবো। সরকারের কাছে দাবি পানি সরায়ে দাও।’
গোবিন্দপুর গ্রামের দুলালী বিশ্বাস (৬৫) বলেন, ‘আমরা প্রায় এক মাস জলে ডুবে আছি। এ পর্যন্ত এমপি আমাদের দেখতি আসেনি। বাড়িঘর থেকে একটুও জল নামেনি। আমাদের ত্রাণের দরকার নেই। এমপি বাবুর কাছে দাবি, তাড়াতাড়ি পানি সরায়ে দাও। আমরা আর কতদিন জলে ডুবে থাকবো।’
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার সকালে উপজেলায় বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা ত্রাণ কমিটি সুন্দলী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে ছয়শ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণের দিন ধার্য ছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য রণজিত কুমার রায়ের উপস্থিতিতে ওই ত্রাণ বিতরণ হবে বলে এলাকায় প্রচার হয়েছিল।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়কারী বৈকুণ্ঠ বিহারী রায় বলেন, ‘ভবদহের পলি অপসারণের জন্য একটি মাত্র এস্কেভেটর আনা হয়েছে। আমডাঙ্গা খাল কাটার জন্য এখনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এলাকার এক ইঞ্চি পানিও কমেনি। এসব কারণে জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে।’
/এনএস/








