নরসিংদীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নিহত মোহাম্মদ আলীর (৩০) ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় বেলাবো উপজেলার মাটিয়ালপাড়া গ্রামের বাড়িতে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় বুধবার রাতেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শফিউর রহমানকে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে নিহত মোহাম্মদ আলীর মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মরদেহটি বেলাবো উপজেলার মাটিয়ালপাড়া গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। বিকাল সাড়ে ৫টায় বাড়ির পাশের মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এলাকার সর্বস্তরের লোকজন জানাজায় অংশ নেয়।
নিহতের মা অনুফা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, এই মুহূর্তে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার মত মানসিক ভারসাম্য আমার নেই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনে মামলা করবো।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আমিরুল হক শামীম বলেন, সকালে মোহাম্মদ আলীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এই মুহূর্তে ময়নাতদন্তের কোনও তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট করেছেন। এ সময় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
সুরতহালে লাশে আঘাতের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এব্যাপারে গোয়েন্দা পুলিশ বাদী হয়ে বুধবার রাতে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মেহেদী হাসান বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে অনুমতি না দিলে এ ব্যাপারে কোনও কথা বলতে পারবো না।
পুলিশের দাবি, বুধবার দুপুরে ১১০ পিস ইয়াবাসহ বেলাবোর মাটিয়ালপাড়া এলাকার স্টেশনারি দোকান থেকে মোহাম্মদ আলীকে আটক করা হয়। আটকের পর হঠাৎ করে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা রয়েছে বলেও জানায় গোয়েন্দা পুলিশ।
এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের নির্যাতনে মোহাম্মদ আলীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তার পরিবারের সদস্যরা।
/এমএসএম/








