নাতির মৃত্যুর শোক সহ্য করতে পারলেন না নিহত সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের নানী ৯০ বছর বয়সী রোকেয়া বেওয়া। নাতির মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে নিজেও ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে। আজ শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিমুলের মৃত্যুর পর এই শোকে সন্ধ্যার দিকে মারা যান রোকেয়া বেওয়া। একইদিনে জোড়া মৃত্যুর আঘাতে ওই পরিবার এখন স্তব্ধ।
নিহত সাংবাদিক শিমুলের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে বগুড়া থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিমুলকে নিয়ে ঢাকার পথে রওনা দেওয়া হয়। কিন্তু পথেই মৃত্যু হয় শিমুলের।
শিমুলের মৃতদেহ তার গ্রামের বাড়ি শাহজাদপুরের মাদলা গ্রামে নিয়ে আসা হলে তা দেখেই মূর্ছা যান শিমুলের নানী রোকেয়া বেওয়া। এসময় তাকে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, ছোটবেলায় শিমুলের বাবা রহমত উল্লাহ মারা যান। এরপর থেকে নানী রোকেয়ার কাছেই শিমুল লালিত-পালিত হন। শিমুলকে ডিগ্রি পর্যন্ত পড়ান তিনি। শিমুলের সম্পদ বলতে কিছুই ছিল না। নানী তার বসতভিটার চার শতাংশ তাকে লিখে দিয়ে তার সঙ্গেই থাকতেন। পুত্র স্নেহে বড় করে তোলা শিমুলের মৃত্যুর সংবাদের ভার আর নিতে পারেননি রোকেয়া বেওয়া।
শাহজাদপুর থানার উপপরিদর্শক এসআই কংকন বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শিমুলের মৃত্যুর খবর পেয়েই অসুস্থ হয়ে পড়েন তার নানী রোকেয়া বেওয়া। শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে ভর্তি করা হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
নাতির পর নানীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কেবল শিমুলের পরিবারই নয়, গোটা গ্রামেই শোক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশী ও স্বজনরা ভিড় করছেন শিমুলের বাড়িতে।
/টিআর/







