বগুড়ার কাহালু উপজেলার পাঁচপীর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই ডাকাত নিহত হয়েছে। এসময় দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ধরতে গিয়ে এক কর্মকর্তাসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৫ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল ও কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। আহতদের পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। কাহালু থানায় পুলিশের ওপর হামলা, ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে তিনটি পৃথক মামলা হয়েছে।
নিহতরা হলো- বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া শাবলা গ্রামের মৃত আবদুস সাত্তার শেখের ছেলে দুলাল হোসেন (৫১) ও নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাজগ্রামের মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম আলী (৪১)।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- কাহালুর দেওগ্রাম উত্তরপাড়ার মৃত হামেদ আলী ফকিরের ছেলে মোজাম ফকির (৪৫) ও নন্দীগ্রামের পাঠান মির্জাপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে ইয়াকুব আলী (৫১)।
কাহালু থানার ওসি নুর-ই-আলম সিদ্দিকী জানান, মঙ্গলবার রাত সোয়া ১টার দিকে একদল সশস্ত্র ডাকাত বগুড়া-তালোড়া সড়কের কাহালু উপজেলার ফকিরপাড়া এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঘটনার টের পেয়ে টহল পুলিশ সেখানে গেলে ডাকাতরা গুলিবর্ষণ করতে থাকে। আত্মরক্ষায় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়লে ডাকাতরা পালিয়ে যেতে থাকে। এসময় ধাওয়া করে মোজাম ফকির ও ইয়াকুবকে গ্রেফতার করা হয়। গুলিবিদ্ধ দুলাল ও ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তারা মারা যায়।
তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় ডাকাতদের গ্রেফতার করতে গিয়ে কাহালু থানার এএসআই ফিরোজ আলম ও কনস্টেবল আবদুল বারি আহত হন। তাদের পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি জানান, নিহত ও গ্রেফতারকৃতরা আন্ত:জেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। এদের বিরুদ্ধে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ থানায় ৫-৬টি করে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে।
কাহালু থানার এসআই মতিয়ার রহমান জানান, পুলিশ বাদী হয়ে কাহালু থানায় অস্ত্র আইন, পুলিশের ওপর হামলা ও ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা করেছে। প্রয়োজনে গ্রেফতার দুই ডাকাতকে রিমান্ডে নিয়ে তাদের সঙ্গিদের চিহ্নিত ও অস্ত্র উদ্ধার করা হবে বলে জানান তিনি।
/এআর/







