বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ ছয় মাসের জন্য স্থগিতসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিবাদে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে দ্বিতীয় দিনের মতো ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট চলছে। হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে ভর্তি হওয়া রোগীদের সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এস এম সিরাজুল ইসলাম জানান, জরুরি বিভাগসহ অন্য বিভাগের রোগীদের সেবা অব্যাহত রাখতে মিড-লেভেলের চিকিৎসকরা বাড়তি শ্রম দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের ১৯৯ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক শনিবার দুপুর থেকে ধর্মঘট পালন করছেন। ইনডোর ও আউটডোর সেবা চালু রাখতে মিড-লেভেলের মেডিক্যাল অফিসার থেকে রেজিস্টার পদধারী ১৫৯ জন চিকিৎসক বাড়তি ডিউটি করছেন।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক বলেন, এছাড়া নার্সদের সংখ্যা পর্যাপ্ত হওয়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রাথমিক কাজটা দায়িত্ব নিয়ে করার জন্য তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি স্বীকার করেন, রবিবার মেডিসিন-১ ইউনিটে ভর্তির তারিখ থাকায় সেখানে কিছুটা ভিড় হয়েছে। তবে অন্য ৩০ ইউনিটের সেবায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট তেমন প্রভাব ফেলেনি।
শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. দাস রনবীর জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত) ৩৫০ জন রোগী ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তির পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীর সেবা দানের প্রাথমিক কার্যক্রম করে থাকেন। তাদের ধর্মঘটের কারণে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
মেডিসিন-২ বিভাগের রেজিস্টার ও শেবামেকের অধ্যাপক ডা. সোলায়মান বলেন, একদিকে মেডিক্যালের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে, অপরদিকে রোগীদের চিকিৎসার জন্য বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এটা মানিয়ে নিয়ে আমরা রোগীদের সেবা দিচ্ছি যাতে তাদের কোনও ভোগান্তি না হয়।
অন্যদিকে হাসপাতালের মেডিসিন-২ ইউনিটে ভর্তি থাকা বাউফল থেকে আসা কালু চন্দ্র দাস এবং অন্য রোগীরা বলেন, তাদের এখানে নিয়মিত চিকিৎসক আসছেন, কোনও সমস্যা হচ্ছে না।
তবে মেডিসিন -১ ইউনিটে বিউটি বেগম নামে এক মা জানান, শনিবার রাত ১২টায় নগরীর রূপাতলী এলাকা থেকে তিনি তার ছেলে ওমর ফারুককে নিয়ে এসেছেন। এখন পর্যন্ত সিট পাননি আর নার্স এসে স্যালাইন পুশ করেছে ও পরীক্ষা করানোর জন্য লিখে দিয়েছেন। তবে এখনও কোনও ডাক্তার আসেননি।
একই ইউনিটে কাশীপুর থেকে আসা এসএসসি পরীক্ষার্থী মুসার পরিবারেরও একই কথা ডাক্তারের দেখা পাননি তারা। নার্সরাই সব দেখশোনা করছেন।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন : রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনে, রোগীরা দুর্ভোগে








